
শেষ আপডেট: 12 December 2023 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ঘরোয়া ভাবে কিছু পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। তাকে বলা হয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ। কিন্তু মূলত পেঁয়াজের জোগানের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীলতা রয়েছে ঢাকার। এদিকে ভারতেও পেঁয়াজের সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ইতিমধ্যেই হাতে ছ্যাঁকা লাগছে মধ্যবিত্তের। খোলা বাজারে কমবেশি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। লোকসভা ভোটের আগে পেঁয়াজের আরও বাড়লে তার রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের। তাই পেঁয়াজ রফতানির উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নয়াদিল্লি। তার ধাক্কা আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশে।
ওপার বাংলায় কদিন বাদেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন। তার আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ে খুবই বিব্রত অবস্থা শেখ হাসিনা সরকারের। গত কয়েকদিনের পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশে এক ধাক্কায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা (বাংলাদেশি টাকা বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন কেজি প্রতি ২০০ টাকা। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা। অর্থাৎ কলকাতার দ্বিগুণেরও বেশি দামে ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
এই অবস্থায় চিন থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করেছে বাংলাদেশ। চিনের পেঁয়াজের আকার নাকি বড়। তবে সেই পেঁয়াজের স্বাদ বাংলাদেশ বা ভারতের পেঁয়াজের মতো নয়। দাম সামান্য কম হলেও খেয়ে সুখ হচ্ছে না।
পেঁয়াজের রফতানিতে রাশ টানতে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছিল টন প্রতি ৮৮০ ডলারের কমে পেঁয়াজ বিদেশে বিক্রি করা যাবে না। তার পর আবার সেই নির্দেশে সংশোধন করে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রফতানিতে।
নয়াদিল্লির এই রক্ষণশীল অবস্থানের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কা, ভূটানের মতো পড়শি দেশেও পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছে।
ভূটান ও ভারতীয় মুদ্রার মূল্যের কোনও ফারাক নেই। সেখানে ভারতীয় মুদ্রার মূল্যে দেড়শ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। কদিন আগে ভারত সীমান্ত দিয়ে ৮টি ট্রাক ভর্তি পেঁয়াজ ভূটানে যাচ্ছিল, তাও আটকে দেওয়া হয়েছে।
পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে নেপালেও। ভারত থেকে গত আর্থিক বছরে ১৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল নেপাল। ভারত রফতানি বন্ধ করায় কাঠমান্ডুতে পেঁয়াজের দাম পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০০ টাকায়। শ্রীলঙ্কাতে সেখানকার মুদ্রায় কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। বড় পেঁয়াজের দাম পৌঁছে গিয়েছে প্রতি কেজি ৪০৫ শ্রীলঙ্কান টাকায়।