Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

এপ্রিলে শুনানি শুরু, বিচার বয়কট করবেন হাসিনা, দ্য ওয়াল-কে জানালেন আওয়ামী লিগ নেতা

হাসিনা কি আইনজীবী মারফত দেশে বিচারের মুখোমুখি হবেন?

এপ্রিলে শুনানি শুরু, বিচার বয়কট করবেন হাসিনা, দ্য ওয়াল-কে জানালেন আওয়ামী লিগ নেতা

শেষ আপডেট: 24 March 2025 11:38

অমল সরকার  

বাংলাদেশের (Bangladesh) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Ex Prime Minister Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতা বিরোধী হিংসা মামলার বিচার এপ্রিলে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (International Criminal Tribunal, Dhaka) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম (Chief prosecutor Tazul Islam)। ওই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার (Justice Golam Mortuza Mazumder) ঘোষণা করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচার অক্টোবর মাসের মধ্যে শেষ করতে চান তাঁরা। ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে মূল আসামি করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথম মামলাটিতে হাসিনা-সহ আওয়ামী লিগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি মিলিয়ে ৪৬ জনের নাম আছে।

হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি কি আইনজীবী মারফত দেশে বিচারের মুখোমুখি হবেন? আওয়ামী লিগ (Awami League) নেতা মহম্মদ আলি আরাফত (Md Ali Arafat) ‘দ্য ওয়াল’ (The Wall)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ওই ট্রাইব্যুনাল বেআইনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যার বিচার করার কোনও অধিকার ট্রাইব্যুনালের নেই। আমরা ওই ট্রাইব্যুনাল মানি না।’

মহম্মদ আলি আরাফত বাংলাদেশে পরিচিত নেতা এবং আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। শেখ হাসিনার সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, শেখ হাসিনা সসম্মানে দেশে ফেরার পর তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এবং গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করবেন। সেই তালিকায় থাকবেন ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারাও যাঁরা বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন।  

শুধু ট্রাইব্যুনালই নয়, বাংলাদেশে বহু আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের তদন্তও ইতিমধ্যে বয়কট করেছেন হাসিনা। ২০০৯ সালে ঢাকার পিলখানায় (Pilkhana) বাংলাদেশের তৎকালীন সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর (BDR) জওয়ানদের বিদ্রোহের জেরে ৫৭জন সামরিক কর্মকর্তা-সহ ৭৪জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিডিআর প্রধান মেজর শাকিল আহমেদও ছিলেন।

ওই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইউনুস সরকার ২০০৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন একটি কমিশন গঠন করেছে। কমিশন গত ৮ মার্চ হাসিনা-সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও ১৫ জনকে তলব করে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য নথিভুক্ত করতে বলে। হাসিনার তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলে দলীয় সুত্রের খবর।

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বা আইসিসি-তে (International Criminal Court) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

ওই আদালত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ফিলিপিন্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি রদ্রিগো দুতার্তেকে চলতি মাসে গ্রেফতার করেছে আইসিসি।

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালটি গঠনের জন্য দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে আইন তৈরি করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে স্বাধীনতার লড়াইয়ের বিরোধিতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, নারীর প্রতি যৌন পীড়নের ঘটনায় যুক্তদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে ওই আইন তৈরি করা হয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর ওই আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের ব্যবস্থা করেন । ট্রাইব্যুনালের রায়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

এমন একটি ট্রাইব্যুনালে কী করে তাঁর বিচার হতে পারে বারে বারে সে প্রশ্ন তুলছেন হাসিনা। দলের ভার্চুয়াল বৈঠকগুলিতে বারে বারে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমি কি অপরাধ করেছি যে আমার বিচার হবে? অপরাধ করেছেন মহম্মদ ইউনুস। তিনি জোর করে ক্ষমতা দখলের জন্য ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরে আমি ওঁদের বিচারের মুখোমুখি করব।

আওয়ামী লিগ নেতা আরাফতকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেখ হাসিনা কেন ট্রাইব্যুনালের মামলার মুখোমুখি হবেন না? আওয়ামী লিগ কি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখছে না?

হাসিনা ঘনিষ্ঠ ওই নেতা বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু কাল্পনিক অভিযোগ সাজিয়ে মামলা করা হয়েছে। তাছাড়া ইউনুস সরকারের পুনর্গঠন করা ট্রাইব্যুনালটি বেআইনি। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম একজন রাজাকার। তিনি মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের হয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা লড়েছেন। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, পাকিস্তানপন্থী মানুষ। এমন ট্রাইব্যুনালে বঙ্গবন্ধু কন্যার বিচার হতে পারে না। আরাফত জানান, ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন। সেই মামলা ধাপাচাপা দিয়ে আওয়ামী লিগ নেত্রীর বিচার করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

আওয়ামী লিগের আরও অনেক নেতাই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে সরব। তাঁদের বক্তব্য, বিচার শুরুর আগেই আওয়ামী লিগ নেত্রীকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে। মামলার মেরিট ছাড়াই গ্রহণ করা হচ্ছে। যা থেকে স্পষ্ট শেখ হাসিনাকে অপদস্থ করাই উদ্দেশ্য।


```