মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জুলাই ঘোষণা পত্রে ১৯৭১-এী মুক্তিযুদ্ধকে কোনওভাবে খাটো করার চেষ্টা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে পথে নামবেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 August 2025 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার ঢাকায় জুলাই ঘোষণা পত্র পাঠ করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। জুলাই ঘোষণা পত্র হল গত বছর জুলাইয়ে শুরু হওয়া 'গণ বিপ্লবের' একটি দলিল। যা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সংসদ লাগোয়া এলাকায় এক সমাবেশে সেটি পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
তাঁর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জুলাই ঘোষণা পত্রে ১৯৭১-এী মুক্তিযুদ্ধকে কোনওভাবে খাটো করার চেষ্টা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে পথে নামবেন।
বাংলাদেশের সনামধন্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড আই খান মঞ্চ ৭১ নামে সদ্য একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। পান্না বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রবীণ আইনজীবী। মুক্তিযোদ্ধা পান্না মানবাধিকার বিষয়ক মামলা লড়ে থাকেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে একাধিক মামলায় তাঁকে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে দেখা গিয়েছে। আবার আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর তিনি ঘোষণা করেন, শেখ হাসিনার মামলা নিখরচায় লড়বেন।

মঞ্চ '৭১-এর আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না
জুলাই ঘোষণা পত্র পাঠের কয়েক ঘণ্টা আগে এক বিবৃতিতে মঞ্চ '৭১ বলেছে,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ, ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশবাসীর প্রতি সংগঠনটি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার যে জুলাই ঘোষণা পত্র পাঠ করবেন সেটির বয়ান নিয়ে কৌতূহল এবং উৎকণ্ঠা দুই-ই আছে। অনেকেরই আশঙ্কা মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে এক বন্ধনীতে রাখার চেষ্টা হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত ইউনুস কী ঘোষণা করবেন তা নিয়ে নানা মহলে সংশয়, উৎকণ্ঠা আছে।
মঞ্চ '৭১-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড, পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের নাম নয়—এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। হাজার বছরের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের ফসল। অথচ আজ আমরা গভীর বেদনা ও ক্ষোভ নিয়ে দেখছি, এ ইতিহাস মুছে ফেলার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অগস্ট অভ্যুত্থানের পর ঘোষিত কথিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং বিভিন্ন বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমাননা ও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে।'
'মঞ্চ ৭১' এর ৫ দফা দাবি হল
১. জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা রাখা যাবে না; থাকলে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হবে।
২. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা বাদ দিয়ে তথাকথিত নতুন সংবিধান প্রণয়নের যে চেষ্টা চলছে, তা বাঙালি জাতি কখনও মেনে নেবে না।
৩. কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার দায়ে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে দায়ী করা যাবে না।
৪. যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে, ইতিহাস বিকৃত করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করছে—তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ও বিচার করতে হবে।
৫. ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—তারা কী মনে করেন, কী করবেন এবং কী করবেন না।
‘মঞ্চ ৭১’ ঘোষণা করেছে, এই দাবি উপেক্ষা করে যদি কেউ মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করে, তাহলে তারা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে। প্রয়োজনে ইতিহাস রক্ষার জন্য জীবন বাজি রাখতেও তাঁরা প্রস্তুত বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনের সমন্বয়ক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন—
এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এটি ইতিহাস, স্বাধীনতা এবং শহিদের রক্তের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।'