
জেলবন্দি আসামীরা ফিরে আসছেন জেলে - প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 August 2024 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরই জেলবন্দি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। পাশাপাশি সমস্ত বন্দি আন্দোলনকারীদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই নির্দেশের আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার জেলে হামলা চালানো হয়। পাঁচিল ভেঙে, গেট ভেঙে বহু বন্দিকে বের করা হয়েছিল। এমনই ঘটনা ঘটেছিল সাতক্ষীরা জেলাতেও। কিন্তু সেই জেল থেকে পালানো অনেক বন্দিই মঙ্গলবার কারাগারে ফিরেছেন বলে খবর।
সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ঢল দেখা যায়। তাঁরা পাঁচিল টপকে জেলের ভিতর ঢুকে বন্দিকে মুক্ত করেন। শয়ে শয়ে বন্দিরা জেল থেকে পালিয়ে যান এই সুযোগে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, রাজনৈতিক বন্দিরা তো বটেই, প্রচুর সাধারণ বন্দিও পালিয়েছিল। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে মঙ্গলবার অনেক বন্দি পালিয়ে গিয়েও ফিরে এসেছেন।
বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সাতক্ষীরা সংশোধনাগারে প্রায় ৬০০ জন বন্দি ছিলেন। তাদের অধিকাংশই পালিয়ে গেছিলেন। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে একে একে বন্দিরা আবার জেলে ফিরে আসছেন। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ২০০ আসামী ফিরে এসেছেন। প্রসঙ্গত, সোমবার শুধু আসামীদেরই মু্ক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়নি, জেলে ভাঙচুরও চালানো হয় এবং জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়।
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ চালানো হবে। সরকার গঠনের জন্য আওয়ামি লিগকে আলোচনায় ডাকা হবে না। আলোচনায় যুক্ত থাকবে বিএনপি, জামাত শিবির। ইতিমধ্যেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। সুতরাং নতুন সরকার গঠনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কী ভূমিকা থাকবে, সেই দিকে সকলের নজর।
ইতিমধ্যে গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর দলের কেন্দ্রীয় ও শহরের কার্যালয় খুলেছে বাংলাদেশ জামাত ই-ইসলামি। একইসঙ্গে ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও খোলা হয়েছে। পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী সংগঠন হিসাবে পরিচিত জামাত-ই-ইসলামি। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলের মাঝে বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামি সহ তার সহযোগী সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করেছিলেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে গোটা দেশে নিষিদ্ধ করা হল ইসলামি ছাত্র শিবিরকেও।