শেখ হাসিনার নামে আরও একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল। রবিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদার এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 1 June 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনার নামে আরও একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল। রবিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদার এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহা নির্দেশকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আর্জি জানান। বিচারপতি অভিযুক্তদের ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছেন। দেশে নেই সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও।
আগাম ঘোষণামতো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত রিপোর্ট রবিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পেশ করা হয়। রিপোর্টটি পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। বিচার কাজ সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক ও ইউটিউবে সরাসরি প্রচার করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মামলার বিচার সরাসরি সম্প্রচার করা হল।
এই মামলার সুত্রে বারে বারে এসেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ায়দুল কাদেরের নাম। এসেছে হাসিনার বেসরকারি শিল্প উপদেষ্টা সলমল এফ রহমান এবং সাবেক পুলিশ প্রধানের নামও। তাঁদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক নির্দেশ দেওয়া, খুন, সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয় কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গাল দিয়ে হাসিনা হিংসায় উসকানি দিয়েছেন। হত্যার পর দেহ লোপাট করা, আত্মীয়দের হাতে না দিয়ে গণ কবর দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয় হেলিকপ্টার, ড্রোন ব্যবহার করে হতাযজ্ঞ চালানো হয় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে।
এদিকে, আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবদুল কাদের রবিরার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গি ইউনূস সরকারের প্রযোজনায় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে বিষোদগার, কুৎসা রটানো এবং অপপ্রচার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার জন্য এই ইউনূস গংদের কোনও সাংবিধানিক ও নৈতিক ভিত্তি নেই। একদিকে তাদের প্রতি জনগণের কোনও ম্যান্ডেট নেই। অন্যদিকে তাদের জনসমর্থনও শূন্যের কোঠায়। জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের সময় কিছু মিথ্যার ফানুস উড়িয়ে তারা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। তবে দিন যত যাচ্ছে এদের সকল ষড়যন্ত্র ও ব্যর্থতা একের পর এক জনসম্মুখে উঠে আসছে।
ওয়ায়দুল কাদের আরও বলেন, বাংলার জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করছে। ফলে এই অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীর সবকিছু টালমাটাল হয়ে গেছে।