বুধবার ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে সাবেক এই সিইসি-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি শেখ হাসিনার বিগত পনেরো বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর ভোটের তিন সিইসি-সহ তখনকার কমিশনের ২৪ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

শেখ হাসিনা (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 26 June 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪-এর বাংলাদেশ সংসদের দ্বাদশ সাধারণ নির্বাচন (12th Parliamentary election in Bangladesh) ছিল একটা প্রহসন (farce)। বৃহস্পতিবার আদালতে এমন মন্তব্য করেছেন সেই নির্বাচনের অন্যতম পরিচালক তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ( Ex CEC Kaji Habibul Awuwal, who conducted 12th parliamentary election in Bangladesh)।
বুধবার ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে সাবেক এই সিইসি-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি শেখ হাসিনার বিগত পনেরো বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর ভোটের তিন সিইসি-সহ তখনকার কমিশনের ২৪ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বিএনপির (BNP) আর্জি মেনে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত (Dhaka Metropolitan court) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেছে। কাজী হাবিবুল আউয়াল ছাড়াও আর এক সাবেক সিইসি একেএম নুরুল হুদাকে আগেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে হুদা গত মঙ্গলবার বলেন, রিটার্নিং অফিসার কোনও প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করলে কমিশনের কিছু করার থাকে না।

আদালতে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
অন্যদিকে, কাজী হাবিবুল আউয়াল স্বীকার করে নেন ২০২৪-এ তাঁর নেতৃত্বে হওয়া নির্বাচন অনিয়মে ভরা ছিল। তিনি সেই নির্বাচনকে প্রক্সি ভোট বলে উল্লেখ করেন। বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বোঝাপড়া না হওয়াতেই নির্বাচনের ওই পরিণতি হয়েছিল।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সাবেক এই সিইসি-কে প্রশ্ন করেন, অনিয়মের ভোট হচ্ছে দেখেও আপনি পদত্যাগ করেননি কেন?
জবাব দেওয়ার আগে বেশ কিছু সময় চুপ থেকে সাবেক সিইসি আউয়াল বলেন, অতীতে কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেননি। আউয়াল আরও বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোনও নির্বাচনই অবাধ হয়নি।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের বৃহস্পতিবারের বক্তব্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য খুবই অস্বস্তির কারণ হল। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। বেশিরভাগ বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লিগেরই একাংশ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র বা নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
আদালত পুলিশের আর্জি মেনে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে তিনদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশি জেরায় তিনি আরও কী বিস্ফোরক কথা বলেন সেটাই এখন দেখার।