হঠাৎ মুখ বা পা ফুলে গেলে তা ওজন বাড়ার লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এটি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, সময়মতো সতর্ক হওয়া জরুরি।

কিডনির সমস্যা নয় তো!
শেষ আপডেট: 25 March 2026 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ জামাকাপড় টাইট লাগছে, মুখটা যেন একটু ফুলে গেছে, দিনের শেষে পা-গোড়ালি (Ankles) ফুলে উঠছে—অনেকেই এটাকে সাধারণ ওজন বেড়ে যাওয়া (Weight Gain) ভেবে উড়িয়ে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব সময় বিষয়টা এতটা সহজ নয়। এই ছোট ছোট পরিবর্তনের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনির প্রদাহের (Kidney Inflammation) মতো গুরুতর সমস্যা।
এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন মণিপাল হাসপাতাল, দ্বারকার নেফ্রোলজি (Nephrology) ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট (Kidney Transplant) বিভাগের প্রধান ও পরামর্শদাতা ডা. সুমন লতা (Dr Suman Lata)। তাঁর কথায়, কিডনির সমস্যার লক্ষণ অনেক সময়ই চুপিসারে শুরু হয় এবং গুরুতর ক্ষতি হওয়ার আগেই তা ধরা পড়ে না।
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে জল জমতে (Fluid Retention) শুরু করে। কারণ, তখন সোডিয়াম (Sodium) ও জল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মুখ, হাত ও পায়ে ফোলা দেখা দেয়। যা সাধারণ ফোলাভাব বা ওজন বাড়ার মতো মনে হলেও, আসলে তা শরীরের ভিতরের প্রদাহের ইঙ্গিত হতে পারে।
সমস্যা হল, কিডনি অত্যন্ত সহনশীল অঙ্গ। চাপের মধ্যেও দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়। এই কারণেই অনেকেই প্রাথমিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেন না।
আধুনিক জীবনযাপনের (Lifestyle) বেশ কিছু অভ্যাস এই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত লবণ (Salt) ও প্রসেসড খাবার (Processed Food) কিডনির উপর চাপ বাড়ায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস (Diabetes) ও উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) ধীরে ধীরে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর সঙ্গে বসে থাকা জীবনযাপন (Sedentary Lifestyle), ধূমপান (Smoking), অ্যালকোহল (Alcohol) এবং দূষণ (Pollution)—সব মিলিয়ে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা কিডনির কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
এক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ কিন্তু একেবারেই এড়ানো উচিত নয়। চাপ দিলে দাগ থেকে যায় এমন ফোলা (Swelling), সকালে চোখের চারপাশে ফোলাভাব, ফেনাযুক্ত প্রস্রাব (Foamy Urine), অকারণে ক্লান্তি (Fatigue) বা হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া—এসবই কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে আশার কথা, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কম লবণ ও চিনি খাওয়া, বেশি জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা (Exercise), ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা—এই সব অভ্যাস কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অযথা পেনকিলার (Painkiller) এড়ানো এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানোও জরুরি।
চিকিৎসকদের কথায়, কিডনির ক্ষতি হঠাৎ করে হয় না। নিঃশব্দেই শুরু হয়। তাই ছোট লক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ, যেটা আপনি সাধারণ ওজন বাড়া ভাবছেন, সেটাই হয়তো শরীরের সাহায্যের আর্তি।