Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!

স্ট্রোকের পর শরীর ফের সচল হয়, মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারে ধাপে ধাপে এগোলেই ম্যাজিক ঘটে মস্তিষ্কে

স্ট্রোক বা নিউরো অসুখের পর মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার কেন হয়? কতটা রিকভারি সম্ভব? লিখলেন অ্যাপোলো চেন্নাইয়ের নিউরোলজিস্ট।

স্ট্রোকের পর শরীর ফের সচল হয়, মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারে ধাপে ধাপে এগোলেই ম্যাজিক ঘটে মস্তিষ্কে

ডক্টর বিজয়শঙ্কর পি, চেন্নাই অ্যাপোলো।

Dr. Vijayashankar. P

শেষ আপডেট: 12 February 2026 12:57

ডক্টর বিজয়শঙ্কর পি
নিউরোলজিস্ট এবং মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার স্পেশ্যালিস্ট, চেন্নাই অ্যাপোলো

স্ট্রোক হোক বা যে কোনও নিউরো অসুখ (Neuro Disease), হঠাৎ করেই যেন শরীরকে স্থবির করে দেয়। অসুখ সারলেও, তারপর হাত-পা যেন আর আগের মতো সচল থাকে না, থেমে যায়। কিন্তু থামলেই শেষ নয়— এই জায়গা থেকেই শুরু হয় মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের (movement disorder) আসল লড়াই। সেই লড়াইয়ে নেমেই প্রথম প্রশ্ন জাগে, মস্তিষ্কের বড় ধাক্কার পরে শরীর কি সত্যিই আগের জায়গায় ফিরে আসে? কতটা আসে? কীভাবেই বা আসে? 

‘মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার’ বলতে কী বোঝায়? 

মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার আসলে অনেক বড় একটা ছাতার মতো বিষয়। এর বহুবিধ কারণ থাকে, বহুমুখী সমাধানও থাকে। পার্কিনসন্স হোক বা স্ট্রোক, নানারকম নিউরো সমস্যার কারণে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার হতে পারে। স্ট্রোক হলে হাত-পায়ের পেশিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্যারালাইসিস হতে পারে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়ায় সমস্যা হয়। পার্কিনসন্সের ক্ষেত্রেও মূল সমস্যা হয় হাত কাঁপার, হাঁটার, পড়ে যাওয়ার।

এই সব কিছুর কারণই তৈরি হয় মস্তিষ্কে। মস্তিষ্কের বিশেষ জায়গা বেসাল গ্যাংলিয়া (basal ganglia) ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই নানারকম মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার শুরু হয়। কারণ ব্রেনের ওই অংশই শরীরের ঐচ্ছিক মোটর মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে। এখন সেই আঘাত খুব বড় মাত্রায় হতে পারে, খুব ছোট মাত্রাতেও হতে পারে। তার ওপরেই নির্ভর করে, রোগীর কতটা মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার হবে।

স্ট্রোকের পরে মস্তিষ্ক নতুন করে শেখে

অনেকেরই ধারণা—‘নার্ভ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর কিছু করার নেই’। এই ধারণা একেবারেই সত্যি নয়। এটা একটা মিথ। অনেকেই ভাবে, একবার আমার স্ট্রোক হয়েছে, আমার কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্যারালাইজড হয়েছে, তাহলে আমায় গোটা জীবন এভাবেই বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু তা সত্য নয়। আমাদের ব্রেন শরীরের একটা অসাধারণ অঙ্গ। কারণ ব্রেনের নিউরোপ্লাস্টিসিটি ফাংশন। স্ট্রোক বা কোনও নিউরো অসুখের ফলে মস্তিষ্কে কোনও আঘাত লাগলে, কিছু সময় পরেই আহত অংশের আশপাশে যে কোষগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই ড্যামেজড অংশের কাজটা শিখে ফেলার চেষ্টা করে। ফলে ধীরে ধীরে ড্যামেজ অংশটিরও রিকভারি হতে থাকে।

ধরা যাক, স্ট্রোকের ফলে শরীরের কোনও অংশ নড়াচড়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে নিউরোপ্লাস্টিসিটির কারণে, ব্রেনের কোষগুলি আবার সেই কাজ শিখে গেলে, শরীরের সেই অংশেরও আবার নড়াচড়া আবার শুরু হতে পারে। ফিজিওথেরাপি বা অকুপেশনাল থেরাপির মতো বিষয়গুলি এই ব্যাপারে সাহায্য করে থাকে।

ব্রেন কতটা রি-লার্ন করতে পারে?

যতটা এক্সারসাইজ করা হচ্ছে, যতটা এফোর্ট দেওয়া হচ্ছে, ব্রেনের রিকভারিও ঠিক ততটা। ছোটখাটো স্ট্রোকের ক্ষেত্রে, রোগী ১-২ মাসেই মুভমেন্টে ফিরতে পারে। কিন্তু বড় স্ট্রোকের ক্ষেত্রে থেরাপির ভূমিকা অনেক বেশি। সেটা যত ভালভাবে করা হবে, রোগীর মুভমেন্ট ততই বেশি এবং ততই দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে।

কিছু রিকভারির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি

স্ট্রোকের পর যেসব সমস্যা বেশি দেখা যায়—হাঁটতে অসুবিধা, হাতের গ্রিপ দুর্বল হয়ে যাওয়া, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁপুনি— এসব। প্রথম দিকে রোগীরা ভাবেন, যে যে সমস্যায় তাঁরা পড়েছেন, কখনওই হয়তো সারবে না। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। হাত-পায়ের নড়াচড়া থেকে কথা বলার সমস্যা-- সবই রিকভারি সম্ভব। 

বস্তুত, শরীরের যে অঙ্গের মাসল যত বড়, সেই মাসত তত দ্রুত এবং ভালভাবে আগের অবস্থায় ফেরে। ফাইন মোটর গ্রিপ বা কাঁপার সমস্যা ঠিক হতে হয়তো একটু সময় লাগে। স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে কথা বলাও ফের স্বাভাবিকর করা যায়। ফলে সেরে ওঠার সম্ভাবনা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে।

স্ট্রোকের পরেই ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ 

স্ট্রোকের চিকিৎসা শুরু করার সময়টা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি স্ট্রোকের পর প্রথম দিকের পুনর্বাসন পর্বও দারুণ জরুকি। এই পর্বকে বিশেষজ্ঞরা ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলেন।তার কারণ সেই নিউরোপ্লাস্টিসিটি। ব্রেনের নতুন করে কিছু শিখতে পারার ক্ষমতা। ড্যামেজ হওয়ার পরে যত তাড়াতাড়ি সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে, ব্রেনও তত তাড়াতাড়ি রিলার্ন করতে পারবে সেই সব ক্ষতি। তাই যে কোনও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার শুরু হওয়ার পর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস খুব জরুরি। এই সময় যত ফিজিওথেরাপি, এক্সারসাইজ করা যাবে, ব্রেনের রিকভারি তত দ্রুত হবে। ৬ মাস থেকে ১ বছর পেরিয়ে গেলে, সেই গতি স্লো হয়ে যাবে। ১ বছর পরে রিকভারির সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেলেও, তা কখনওই শূন্য নয়।

তাই আমরা রোগীদের বলি, মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার শুরু হওয়ার পরে ফেলে না রাখতে। কোনও এক অজানা কারণে প্রথম সময়টা অনেকেই নষ্ট করে ফেলেন। ভোগান্তি পোহান। কিন্তু এটাই বেশি করে পরিশ্রম করার সময়, কারণ এই সময়ে যত এফোর্ট দেওয়া হবে, তত তাড়াতাড়ি ব্রেন আগের অবস্থায় ফিরবে।

ফিজিওথেরাপি থেকে বোটক্স— কী দিয়ে শুরু?

রোগীদের অনেকেই কনফিউজড হন, কোন থেরাপি করাবেন তা নিয়ে। কারও যদি দুর্বলতা খুব বেশি থাকে, আমরা ফিজিওথেরাপি দিয়ে শুরু করতে বলি। ফিজিওথেরাপি করে হাত-পায়ের পেশিগুলি একটু শক্তিশালী হলে, সেগুলির মুভমেন্ট একটু সহজ হলে, তার পরে ধীরে ধীরে নজর দেওয়া হয় ছোট পেশিগুলির দিকে। ধরা, লেখা এসব ফাইন মোটর স্কিল ফেরানো হল দ্বিতীয় ধাপ। এ জন্য সবচেয়ে জরুরি অকুপেশনাল থেরাপি। কারণ সূক্ষ্ম বিষয়গুলিতে সময় বেশি লাগে।

আবার যে সব মানুষ খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন, হাত-পা নাড়াতে যন্ত্রণা হচ্ছে, ফিজিওথেরাপি করাও যাঁদের জন্য সমস্যা, তাঁদের জন্য রোবোটিক ফিজিওথেরাপি রয়েছে। রোবোটিক মেশিনের মাধ্যমে একটু একটু করে সচল করা হয় তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পেশিগুলি। ৩ থেকে ৬ মাসের পরে শরীর একটু ভাল হলে, এক্সারসাইজের সময় আসে। কিন্তু অনেক সময়ে পেশিতে বোটক্স দেওয়া হয়, যাতে পেশিগুলি শিথিল হয়, নড়াচড়া সহজ হয়।

‘ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন’ (DBS)-এর মতো পদ্ধতি কখন দরকার?

পার্কিনসন্সের মতো অসুখের ক্ষেত্রে হাত কাঁপা, হাঁটতে না পারার সমস্যা, এসবই মুখ্যত সমস্যা তৈরি করে। এসবের ওষুধও চলে, যা যথেষ্ট কার্যকর। তবে ৪-৫ বছর ধরে ওষুধ চলার পরে, তার ডোজ বাড়তে থাকে। এবং একসময়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, প্রতি ৩-৪ ঘণ্টায় ওষুধ খেতে হয়, সচল থাকার জন্য। এখন এত বেশি ওষুধ খাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে শরীরে।

একটা সময়ের পরে আর যখন ওষুধের ডোজ বাড়ানো যায় না, তখনই আসে ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন। এর মাধ্যমে হাত কাঁপা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রোগীর হাঁটাচলা তথা মোটর সিম্পটম অনেকটাই উন্নত হয়। ওষুধের ডোজও কমানো যায় অনেকটা পরিমাণে। এই ট্রিটমেন্ট এতই উন্নত, রোগীর মনে হয়, তাঁর শরীরের বয়স ৪-৫ বছর কমে গেছে।

চেন্নাই অ্যাপোলোর বিশেষ স্ট্রোক সাপোর্ট 

চেন্নাই অ্যাপোলোর নিজস্ব স্ট্রোক নেটওয়ার্ক আছে। কোনও রোগীর স্ট্রোক হলে যাতে একটা মিনিটও সময় অপচয় না হয়, তা নিশ্চিত করার যথেষ্ট যোগাযোগ রয়েছে এই নেটওয়ার্কের। বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গেই এই কানেকশন রয়েছে। ফলে কোনও স্ট্রোক রোগী যদি এই নেটওয়ার্কের আওতায় আসেন, সময় নষ্ট না করে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে যাবেন। ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগিয়ে, রোগীর ক্লট খোলার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী সার্জারি বা আইসিইউ যদি দরকার হয়, তার পরবর্তী রিহ্যাবিটিলেশন—এই সবটাই এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

এটাকে সমস্ত নিউরো সমস্যার ওয়ান স্টপ সলিউশন বলা যেতে পারে। স্ট্রোক থেকে সাইকিয়াট্রিক সমস্যা অথবা ফিজিওথেরাপি থেকে কাউন্সেলিং—সবটার যত্ন নেওয়া হয় আধুনিকতম পরিষেবা ও দক্ষতম চিকিৎসকের মাধ্যমে। আমরা এখানে কেবল রোগের চিকিৎসা করি না, রোগীর সামগ্রিক চিকিৎসা করি।

বস্তুত, স্ট্রোক মানেই হার মানা নয়। মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার মানেই তা শেষ কথা নয়। ঠিক সময়ে চিকিৎসা, রিহ্যাব আর বিশেষজ্ঞের গাইডেন্স— এই তিনটে মিললে শরীরও আবার আগের অবস্থায় ফেরার পথ খুঁজে নেয়।


```