মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা ভুলে যাওয়া, সাধারণ লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)
শেষ আপডেট: 5 April 2026 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিনের ঘাটতি নিয়ে সচেতনতা থাকলেও, নীরবে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে সোডিয়াম (Sodium) ও পটাশিয়াম (Potassium)-এর ভারসাম্যহীনতা। চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ইলেকট্রোলাইটের (Electrolyte) মাত্রা সামান্য এদিক-ওদিক হলেই দেখা দিতে পারে বিভ্রান্তিকর ও গুরুতর উপসর্গ। যা আমরা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারি না।
চিকিৎসক (Doctor) ডা. অতুল ভাসিন (Dr Atul Bhasin) জানিয়েছেন, এই দুই ইলেকট্রোলাইট শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভারসাম্য নষ্ট হলে দ্রুত চিহ্নিত করে চিকিৎসা (Treatment) শুরু করা দরকার। বিশেষ করে হৃদরোগ (Cardiac Disease), ডায়াবেটিস (Diabetes), কিডনি বিকল (Renal Failure) রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপের (Hypertension) ওষুধ খাওয়া প্রবীণদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে ডা. ভীনু গুপ্তা (Dr Veenu Gupta) বলছেন, শরীরের জলীয় অংশের (Body Water Content) পরিবর্তন হলেই ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম (Excessive Sweating), পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়া না করা, ওষুধ (Medication), হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা, বমি (Vomiting) বা ডায়রিয়া (Diarrhea)—সবই এর কারণ হতে পারে।
স্বাভাবিক মাত্রা (Normal Levels) অনুযায়ী, সোডিয়াম থাকা উচিত ১৩৬-১৪৫ mEq/L, আর দৈনিক সর্বোচ্চ গ্রহণ ২৩০০ mg। পটাশিয়ামের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাত্রা ৩.৫-৫.২ mEq/L, যেখানে মহিলাদের জন্য ২৬০০ mg ও পুরুষদের জন্য ৩৪০০ mg পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
সোডিয়াম কমে গেলে (Hyponatremia) শরীরে জলীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়। উপসর্গ হিসেবে বমিভাব (Nausea), মাথাব্যথা (Headache), ক্লান্তি (Fatigue), পেশির দুর্বলতা (Muscle Weakness) দেখা যায়। চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে—অবসাদ, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি (Seizures), এমনকি কোমা (Coma) বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে সোডিয়াম বেড়ে গেলে (Hypernatremia) মূলত স্নায়বিক সমস্যা (Neurological Symptoms) দেখা দেয়—দুর্বলতা, খিটখিটে মেজাজ। গুরুতর হলে পেশির টান, খিঁচুনি বা কোমার ঝুঁকি থাকে।
পটাশিয়াম কমে গেলে (Hypokalemia) দুর্বলতা, পেশির টান, কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এবং অনিয়মিত হার্টবিট (Arrhythmia) দেখা দেয়। আবার পটাশিয়াম বেড়ে গেলে (Hyperkalemia) অনেক সময় উপসর্গ না থাকলেও বমি, পেশির ব্যথা, হৃদ্কম্পন (Palpitations) হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সোডিয়াম-পটাশিয়ামের তারতম্যে মূলত কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
সাধারণ লক্ষণ (Common Symptoms) হিসেবে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি (Paresthesias), বমি, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন—এসবকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
সমাধান
পর্যাপ্ত জল (Hydration) খাওয়া। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ গ্লাস জরুরি। সঙ্গে ফলের রস, দুধ, ডাবের জল (Coconut Water), ঘোল (Buttermilk), লেবুর জল রাখতে পারেন। তবে যাঁদের আগে থেকেই অসুখ রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ (Medical Guidance) মেনে চলতে হবে।
সব মিলিয়ে শরীরের ছোট্ট ভারসাম্যহীনতাই বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে, তাই সময়মতো সতর্ক হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।