শুধু মায়েরা নয়, সন্তানের জন্মের পর বাবারাও ডিপ্রেশনে ভোগেন—তাও অনেক সময় এক বছর পরে! বলছে গবেষণা, জানুন বিস্তারিত।

শেষ আপডেট: 26 March 2026 13:43
তাই শুরুর কয়েক মাস তাঁরা অনেকটাই স্বাভাবিক থাকেন, অনেক সময় আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ও হয়ে ওঠেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তি, চাপ, দায়িত্ব— সব মিলিয়ে ভিতরে ভিতরে জমতে থাকে এক অদৃশ্য ভার।
এক বছর পেরোতেই সেই চাপ আচমকা বেড়ে যায়। ডিপ্রেশন ও স্ট্রেসজনিত সমস্যার হার ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায় বলে দেখা গিয়েছে।
অনেক বাবা শুরুতেই এ কথা বোঝেন না, বলতেও চান না, সাহায্য চাওয়া তো দূরের কথা। কারণ একটাই। তাঁদের মনে হয়, এই সময়টা মা ও শিশুর জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিজের সমস্যাকে পিছনে সরিয়ে রাখেন।
এই চুপ করে থাকার অভ্যাসই পরে বড় সমস্যা ডেকে আনে। যখন চিকিৎসার দরকার হয়, তখন অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। ফলে এক বছর পেরোতে না পেরোতে, নানা বদল চোখে পড়ে। উদ্বেগ বাড়ে, কারও বা নেশার প্রবণতা জাগে। আড়ালে ডিপ্রেশন আর মানসিক চাপ বাড়তেই থাকে।
গবেষকেরা বলছেন, বাবা হওয়ার যে চাপ, রাতের ঘুম না হওয়া, সংসারের খরচ, সম্পর্কের পরিবর্তন— এসব একসঙ্গে ধাক্কা দেয় না। বরং ধীরে ধীরে জমে ওঠে, আর একসময় তা ভেঙে পড়ে ডিপ্রেশনের আকারে।
এই সমস্যাকেও বলা হয় পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। প্যাটার্নাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা PPND। তথ্য বলছে, প্রায় প্রতি ১০ জন বাবার মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় ভোগেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এটি সাময়িক মন খারাপ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুতর হতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে শুরু হলেও, প্রথম বছরের যে কোনও সময়েই তা দেখা দিতে পারে।
গবেষণা বলছে, এর কোনও একক কারণ নেই। শরীরের হরমোনেও পরিবর্তন আসে, টেস্টোস্টেরন কমে যায়, অন্য হরমোন ওঠানামা করে। যদি সঙ্গীও অর্থাৎ শিশুর মাও ডিপ্রেশনে ভোগেন, তাহলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। অন্যদিকে ঘুমের অভাব, অর্থনৈতিক চাপ, পরিবারের দায়িত্ব— সব মিলিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়।
এর সঙ্গে যদি আগে থেকেই উদ্বেগ বা ডিপ্রেশনের ইতিহাস থাকে, তাহলে সমস্যা আরও গভীর হতে পারে।
তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনের লক্ষণ সবসময় চেনা যায় না। দুঃখ বা ক্লান্তির বদলে অনেক সময় দেখা যায়, হঠাৎ রাগ, বিরক্তি, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, পরিবার থেকে দূরে থাকা, এমনকি হঠাৎ অদ্ভুত আচরণ।
শরীরেও প্রভাব পড়ে। মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, শরীর ব্যথা— এসবও তার লক্ষণ হতে পারে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনও কম। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁদের আলাদা করে স্ক্রিনিং করা হয় না। ফলে সমস্যা অনেক সময় ধরা পড়ে দেরিতে।
মনোবিদরা বলছেন, বাবারা সবসময় শক্ত— এই ধারণাটা বদলানো দরকার। কারণ তাঁরাও ক্লান্ত হন, তাঁরাও ভেঙে পড়েন, হয়তো তার প্রকাশ সকলে করেন না। তাই নতুন বাবা হলে, শুধু দায়িত্ব নয়, নিজের মনের দিকেও একটু তাকানো দরকার। কারণ দিনের শেষে সুস্থ বাবা মানেই নিরাপদ পরিবার আর হাসিখুশি শৈশব।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.