এই কথাগুলো অনেক মহিলাই জীবনে একবার না একবার শুনেছেন। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তলপেটের যন্ত্রণা, অনিয়মিত বা হেভি পিরিয়ড ব্লিডিং, কিংবা সন্তান ধারণে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন— তাঁদের কাছে এই পরামর্শ যেন খুব পরিচিত।
কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সান্ত্বনাগুলো যতটা সহজ শোনায়, বাস্তবটা ততটাই জটিল। আর এই ভুল ধারণাই অনেক সময় চিকিৎসায় দেরি করিয়ে দেয়।
Endometriosis: শরীরের এক জটিল লড়াই
এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভিতরের আস্তরণের মতো টিস্যু শরীরের অন্য জায়গায় বেড়ে ওঠে।
এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই তৈরি হয় প্রদাহ, তীব্র ব্যথা, ভারী পিরিয়ড, এমনকি বন্ধ্যাত্বও। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি প্রায় ১০ শতাংশ মহিলাই এই সমস্যায় ভোগেন। তবু আশ্চর্যজনকভাবে, এই রোগকে ঘিরে এখনও রয়েছে নানা ভুল ধারণা আর অর্ধসত্য।
গর্ভধারণ কি সত্যিই ‘সমাধান’?
গাইনোকলজিস্ট অঞ্জলি কুমার এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলছেন, না, গর্ভধারণ এন্ডোমেট্রিওসিস সারায় না। অনেকেই ভাবেন, সন্তান ধারণ করলে এই রোগ চলে যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।
এই রোগটি হরমোন-নির্ভর। ফলে সময়ের সঙ্গে এর লক্ষণ বদলাতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে রোগটি সেরে গেছে।
তবে অনেক মহিলা এন্ডোমেট্রিওসিসে ভুগতে ভুগতে, গর্ভাবস্থায় গিয়ে কিছুটা স্বস্তি পান, এটা সত্যি। কিন্তু তার কারণ আলাদা। গর্ভাবস্থায় শরীরে এমন হরমোন কাজ করে, যা ডিম্বাণু তৈরি হওয়া ও পিরিয়ড হওয়ার চক্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের ওঠানামা কমে যায়।
ফলে এন্ডোমেট্রিওসিসের ক্ষতগুলো কিছু সময়ের জন্য কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। ব্যথা বা প্রদাহও কমে যায় স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু এটি সাময়িক।
সন্তান জন্মের পরেই ফেরে সমস্যা
ডেলিভারির পর যখন শরীর আবার স্বাভাবিক হরমোনের ছন্দে ফিরে আসে, তখন পুরনো সমস্যাগুলোও ফিরে আসে। ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হলেই, সেই ক্ষতগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তাই এন্ডোমেট্রিওসিসে শুধু গর্ভধারণ নয়, একই যুক্তিতে অনেক ওষুধও কাজ করে। যেমন প্রোজেস্টেরন বা GnRHA— এগুলো হরমোনকে দমন করে সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়।
কেন দেরি হয়ে যায় চিকিৎসায়?
ভুল ধারণাই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে অনেক সময়। কারণ 'মা হলে সেরে যাবে'--এই ধারণাটাF অনেক মহিলার চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে ব্যথা সহ্য করে যান, ভাবেন সময় এলেই সব ঠিক হবে। কিন্তু ততদিনে রোগ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, চিকিৎসাও কঠিন হয়ে যায়।
মনে রাখতে হবে, এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা একরকম নয়। প্রতিটি রোগীর বয়স, উপসর্গ, সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা—সবকিছু বিচার করেই চিকিৎসা ঠিক করতে হয়। কেউ ওষুধে ভাল থাকেন, কারও কারও ক্ষেত্রে আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, নিজের শরীরকে বোঝা, উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া, আর সময়মতো সঠিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। “একটা বাচ্চা নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে”—এই ধারণা হয়তো সহজ, কিন্তু তা অনেক সময় বিপজ্জনকও হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.