মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। পরকীয়া ও রূপের অহংকারে স্বামীকে খুন করে ডাকাতির নাটক সাজাল স্ত্রী।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 April 2026 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সাত জন্মের। কিন্তু পরকীয়া ও রূপের অহংকার সেই সম্পর্ককে যে কতটা বীভৎস পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, তার প্রমাণ মিলল মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায়। নিজের স্বামীকে খুনের পর তাকে ‘ডাকাতি’ বলে চালানোর চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না। বিয়ের সাত বছরের মাথায় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার সাজানো নাটক ফাঁস করে দিল পুলিশ।
গত ৭ই এপ্রিল রাতে ধর জেলার এক মশলা ব্যবসায়ী দেবকৃষ্ণ পুরোহিতের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর ঘর থেকে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল স্পষ্ট। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা প্রথম থেকেই দাবি করতে থাকেন যে, রাতে বাড়িতে ডাকাত দল ঢুকেছিল। তারা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ লুট করে এবং বাধা দেওয়ায় দেবকৃষ্ণকে খুন করে। এমনকি নিজেকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করতে প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, ডাকাতরা তাকেও অন্য ঘরে বেঁধে রেখেছিল। প্রতিবেশীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজেকে শোকার্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ হয় প্রিয়াঙ্কার অসংলগ্ন কথাবার্তায়। ডগ স্কোয়াড ও সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে পুলিশ যখন তল্লাশি শুরু করে, তখন দেখা যায় যে গয়নাগুলো চুরির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়ির ভেতরেই লুকানো রয়েছে। এরপরই পুলিশ প্রিয়াঙ্কার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কমলেশ নামের এক যুবকের সাথে দীর্ঘ কথোপকথনের হদিস পায়। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার কড়া জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়েন প্রিয়াঙ্কা এবং স্বীকার করেন নিজের অপরাধ।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে এক রুদ্ধশ্বাস ষড়যন্ত্রের কাহিনী। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রাজগড় নিবাসী কমলেশ পুরোহিতের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তাদের এই পথের কাঁটা সরাতেই দেবকৃষ্ণকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।কমলেশ এই কাজের জন্য সুরেন্দ্র ভাটি নামে এক ব্যক্তিকে ১ লক্ষ টাকায় সুপারি দেয়। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা।ঘটনার রাতে প্রিয়াঙ্কা বাড়ির দরজা ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা রেখেছিলেন। দেবকৃষ্ণ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে খুন করে। এরপর ডাকাতির নাটক সাজাতে ঘর অগোছালো করে রাখা হয়।
নিহত দেবকৃষ্ণের পরিবারের বয়ান অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর বোন জ্যোতি জানান, প্রিয়াঙ্কা সবসময় দেবকৃষ্ণকে তাঁর গায়ের রঙের জন্য অপমান করত। প্রিয়াঙ্কা বলতেন, "তুমি কালো, তুমি আমার যোগ্য নও। আমি অনেক ভাল কাউকে পাওয়ার যোগ্য।" ২০২০ সাল থেকেই পরিবারের লোকেদের সন্দেহ ছিল প্রিয়াঙ্কার অন্য কোনো সম্পর্ক নিয়ে। নিজের কুকীর্তি ঢাকতে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে রাখতেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘাতক স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর প্রেমিক কমলেশকে গ্রেফতার করেছে। তবে ভাড়াটে খুনি সুরেন্দ্র এখনও পলাতক। দেবকৃষ্ণের মা খেঞ্চি বাই কান্নায় ভেঙে পড়ে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন। পরকীয়া আর রূপের মোহে পড়ে একটি সাজানো সংসার যেভাবে ছারখার হয়ে গেল, তাতে শিউরে উঠছেন স্থানীয় মানুষজন।