
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হঠাৎ করে শুরু গুলির আওয়াজ। পরপর গুলি চলেই যাচ্ছে, থামছে না! আমি আর স্বামী নার্সারির মধ্যে ছিলাম। হঠাৎ দুজন...', জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কাঠুয়া জেলায় (Kathua) জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের পর অনিতা দেবী নামের এক মহিলার স্বামীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা। কিন্তু কোনওরকমে তাঁরা বেঁচে গেছেন। সেই ঘটনার ব্যাখ্যাই এক সংবাদসংস্থাকে দিয়েছেন অনিতা।
রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কাঠুয়া জেলায় অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গুলির যুদ্ধ হয়। তার আগে গ্রামের অনেকজনকে ভয় দেখিয়েছিল জঙ্গিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন অনিতা দেবী এবং তাঁর স্বামীও। কিন্তু কোনওভাবে অনিতা পালিয়ে আসেন এবং স্বামীকেও বাঁচাতে সক্ষম হন। কীভাবে জঙ্গিদের চোখে ধুলো দিলেন তাঁরা?
এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে অনিতা দেবী জানিয়েছেন, এনকাউন্টার শুরু হওয়ার সময়ে তাঁরা দুজন একটি নার্সারিতে ছিলেন। জঙ্গিরা সেখানে ঢুকেছিল আশ্রয় নেওয়ার জন্য। সেই সময়েই তাঁর স্বামীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখায় সন্ত্রাসবাদীরা। অনিতার কথায়, 'গান পয়েন্টে স্বামীকে মারার ভয় দেখাচ্ছিল ওরা। আমাকেও কাছে ডেকেছিল। কিন্তু আমার স্বামী চোখ দিয়ে ইশারা করে অন্য একটি রাস্তার দিকে যেতে বলে। আমি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়তে শুরু করে চিৎকার করতে শুরু করি। তখনই নার্সারির দুই কর্মী সেই চিৎকার শুনে ছুটে আসে। জঙ্গিরা পালিয়ে যায়।'
অনিতা দাবি করেছেন, কয়েকশো রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। বেশ কিছু সময় ধরেই তাঁরা গুলির আওয়াজ পাচ্ছিলেন। পরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির যুদ্ধ শুরু হলে তাঁরা অন্য পথ দিয়ে নার্সারি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে চলে যান। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অন্তত ২৫০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল জঙ্গিদের পক্ষ থেকে। হিরানগর সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন সানিয়াল গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। ঠিক তখনই সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীরা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শুরু হয় গুলির লড়াই।
কাঠুয়ার এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু অঞ্চলে বারবারই জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। সপ্তাহখানেক আগেই, ১৭ মার্চ কুপওয়ারা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একজন পাকিস্তানি জঙ্গি নিহত হয় সেই সংঘর্ষে। শুধু তাই নয়, দিনকয়েক আগে কাঠুয়া জেলারই তিনজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সি কিশোরও ছিল।