
শেষ আপডেট: 3 December 2023 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ইনদৌর-১ নম্বর আসন থেকে এবার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সর্বভারতীয় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হলেন কৈলাস। বরাবরই অমিত শাহর আস্থাভাজন নেতা তিনি। তা ছাড়া মোদী-শাহ জমানায় বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদের ওজন কতটা তা দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দও ভাল করে জানে। তাঁকে ফের মধ্যপ্রদেশে প্রার্থী করে পাঠানোটা ছিল এবার ভোটের তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। রবিবার চারটে পর্যন্ত ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, সেই কৈলাস ইনদৌর-১ আসন থেকে ৪৭ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে তাই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে কি এবার মুখ্যমন্ত্রী বদল করবে বিজেপি?
রবিবার গণনার আগে শনিবার দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কৈলাস। এমনিতেই বিজেপিতে গত কয়েক মাস ধরে জল্পনা ছিল যে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের উপর খুশি নন দিল্লির নেতারা। তা ছাড়া শিবরাজ নরমপন্থী। মোদী-শাহ ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর শৈলী খাপ খায়না। শনিবার শাহর সঙ্গে কৈলাসের বৈঠকের এ ব্যাপারে প্রশ্নও করেছিলেন সাংবাদিকরা। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, দিল্লি সত্যিই শিবরাজের উপর চটে রয়েছে কিনা। জবাবে কৈলাস বলেছিলেন, “হাইকমান্ডের ফুরসত কোথায় যে কারও উপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকবেন!” কৈলাস দাবি করেন, অমিত শাহর সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ নিয়ে তাঁর কোনও কথাই হয়নি।
তবে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা ঠিক যে শিবরাজের উপর মোদী-শাহ খুব একটা প্রীত নন। সেই কারণে এবার মধ্যপ্রদেশে ভোট ব্যবস্থাপনার পুরো দায়িত্ব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে নিয়েছিল। কৈলাসকে কৌশলগত ভাবে মধ্যপ্রদেশে পাঠানোও হয়েছিল। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে প্রার্থী করা হয়েছিল দিমানি কেন্দ্রে। তাঁকে ভোট ব্যবস্থাপনার আহ্বায়কও করা হয়েছিল। কিন্তু এও ঠিক, যে বিপুল ব্যবধানে বিজেপি মধ্যপ্রদেশে জিততে চলেছে তাতে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে এখনই বদল করা মুশকিল। তাই হয়তো শিবরাজই ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
বিজেপির শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, কৈলাসকে এখনই বড় কোনও দফতরের মন্ত্রী করা হবে কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হ্যাঁ একটা আলোচনা অবশ্যই রয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রদেশে শিল্প, নগরোন্নয়ন, পূর্ত এবং তথ্য প্রযুক্তি দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন কৈলাস। তার আগে দীর্ঘদিন ইনদৌরের মেয়র ছিলেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকের মতে, লোকসভা ভোটের পর জুন মাস নাগাদ বা তার পরে মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী পদে বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেই দিকে তাকিয়ে অবশ্য দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন কৈলাস। শনিবার দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর হয়তো এ ব্যাপারে কথা হয়েও থাকতে পারে। তবে তা হলেও এখনই বাইরে সে কথা আসার সম্ভাবনা কম।