
জয় ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার নতুন প্রশাসনে কাকে কোন পদে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও (Donald Trump) নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এরই মধ্যে একটি বাঙালি নাম নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। সেই তিনি হলেন, জয় ভট্টাচার্য ( Dr Jay Bhattacharya)।
ডাঃ জয় ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায়। তিনি প্রখ্যাত স্বাস্থ্যবিদ আবারও অর্থনীতিকও। তিনি আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ’ (এনআইএইচ – NIH )-এর নতুন অধিকর্তা হতে চলেছেন।
![]()
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি রয়েছে ৫৬ বছর বয়সি জয় ভট্টাচার্যর তিনি বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকনমিক রিসার্চের সঙ্গে যুক্ত। ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের সঙ্গে মিলে তিনি NIH পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, NIH-এর পরিচালক হিসেবে ড. ভট্টাচার্য ২৭টি ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি করবেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সবই বিভিন্ন প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন মহামারীর জন্য ভ্যাকসিন তৈরি এবং নতুন ওষুধের জন্য লাগাতার রিসার্চ।

জয় ভট্টাচার্য স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক। তা ছাড়া স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন তিনি। সেই কারণেই তিনি অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যনীতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন মার্কিন মুলুকে।
স্ট্যানফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ এবং ফ্রিম্যান স্পোগলি ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো জয় একই সঙ্গে স্ট্যানফোর্ডের সেন্টার ফর ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড ইকোনমিক্স অব হেলথ অ্যান্ড এজিং-এর পরিচালক। তাঁর গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হল স্বাস্থ্যসেবার অর্থনীতি এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ।
কোভিড-১৯ নিয়ে মার্কিন সরকারের নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন জয় ভট্টাচার্য। তিনি লকডাউন এবং মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে ছিলেন।
২০২০ সালে তিনি ‘গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লারেশন’ নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। তাতে দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর বিশেষ সুরক্ষা দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি যুক্তি দেন, লকডাউন সমাজে অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
এছাড়া তিনি টিকা নেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করেন এবং বলেন, এমন নীতিগুলি জনস্বাস্থ্যের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। যদিও তার এই মতবাদ বেশ বিতর্কিত ছিল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞই তাঁর সমালোচনা করেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অংশ তাঁর মতকে সমর্থন জানিয়েছিল।
আর পাঁচজনের থেকে আলাদা মতামতের জন্য সমাজমাধ্যমে প্রভূত বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল জয় ভট্টাচার্যকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়, যে ফেডারেল কর্মকর্তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মতামতে বাধা চাপাচ্ছেন।
২০২২ সালে ইলন মাস্ক টুইটার অধিগ্রহণ করার পরে ভট্টাচার্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেখানে তিনি তাঁর এই সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করেন। পরবর্তী কালে তিনি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞানীদের অন্য একটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন।

জয়ন্ত ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায়। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৯০ সালে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স ডিগ্রি করেন। ১৯৯৭ সালে মেডিসিনে ডক্টরেট (MD) এবং ২০০০ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন তিনি।
জয় ভট্টাচার্যের এই নতুন দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বিতর্কিত অবস্থান মার্কিন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত তাঁকে নিয়ে প্রবাসী ভারতীয় মহলে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।