
শেষ আপডেট: 26 November 2023 09:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের আর মাস পাঁচও বাকি নেই। এই সময় উত্তরপ্রদেশে দলের খোলনলচে বদলে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
প্রদেশ কংগ্রেসের ১৩৩ জনের নয়া কমিটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ভারত জোড়ো’র বার্তা দেশের বৃহত্তম রাজ্যটিতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন প্রবীন কংগ্রেস সভাপতি। কমিটিতে অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণি বা ওবিসির ৪৪জন প্রতিনিধির ঠাঁই হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ-সহ উচ্চবর্ণেরও ৪৪ জনকে রাখা হয়েছে। কমিটিতে ২৩ জন দলিত এবং ২২ জন মুসলিম সদস্য আছেন।
উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্য যা একদা কংগ্রেসের মরুদ্যান ছিল সেটাই এখন দলের জন্য মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। গত বছর বিধানসভার নির্বাচনে হাত শিবির মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করে। ভোট কমে ছয় শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।
আসলে সেই নয়ের দশকের গোড়ায় বাবরি মসজিদকে ঘিরে মন্দির-মসজিদ রাজনীতির সূচনা থেকে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় দলের উচ্চবর্ণের ভোট চলে গিয়েছে বিজেপিতে। দলিত, ওবিসি এবং মুসলিম ভোটে থাবা বসায় সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি।
কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার কথায়, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ছিল ভারত জোড়োর আদর্শ দৃষ্টান্ত। দলিত থেকে ব্রাহ্মণ সব সম্প্রদায়ই হাতের ছাতার তলায় থেকেছে। কিন্তু ভুল রাজনীতি এবং দলের প্রথমসারির নেতাদের দলত্যাগের ফলে দেশের বৃহত্তম রাজ্যটিতে শতাব্দী প্রাচীন দলটি ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে। অথচ এই রাজ্য থেকেই কংগ্রেসের চার নেতা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
শনিবার বেশি রাতে কংগ্রেস হাইকমান্ড উত্তরপ্রদেশের নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলে চর্চা শুরু হয়েছে উচ্চ ও নিম্নবর্ণের সমান প্রতিনিধিত্ব এই প্রথম। অন্য কোনও দলেও এই সমতা নেই, যা খাড়্গে নিশ্চিত করেছেন।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই ব্যাপারে গান্ধী পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। উত্তরপ্রদেশে দলের দায়িত্বে আছেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। তাঁর পরামর্শেই এর আগে খাড়্গে বারাণসীর নেতা অজয় রাইকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করেন। রাই ব্রাহ্মণ। তাঁকেই দলের মাথায় বসিয়ে বিজেপির উচ্চবর্ণের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস।
অন্যদিকে, সংগঠনে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওবিসি, দলিত ও মুসলিমদের। উত্তরপ্রদেশে এই রাজনীতির মডেল গড়ে একদা সফল হন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। তিনিও ব্রাহ্মণ সতীশ মিশ্রকে দলের রাজ্য সভাপতি করে দলিত, ওবিসি-র সঙ্গে উচ্চবর্ণের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ২০০৭-এ রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে মায়াবতীর মতো বর্তমান কংগ্রেস সভাপতিও একজন দলিত নেতা।