
শেষ আপডেট: 30 October 2023 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর নিয়ে বড় ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ ব্যাপারে আরব্রিটাল ট্রাইবুনালে মামলা চলছিল। সেই মামলার রায়ে ট্রাইবুনাল জানিয়ে দিয়েছে, টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওই টাকার উপর ১১ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে। ২০১৬ সাল থেকে ইতিমধ্যে ৭ বছর অতিক্রান্ত। এই সাত বছরে সহজ ১১ শতাংশ হারে সুদ ধরলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়ায় ১৩৫৫ কোটি টাকা। রাজ্য সরকার যতক্ষণ না ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ততক্ষণ এই সুদে গুণে যেতে হবে।
অর্থাৎ সিঙ্গুরে টাটারা বিনিয়োগ করেও যে শেষমেশ কারখানা চালু করতে পারেনি সেজন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা গুণাগার দিতে হবে অর্থংসকটে দীর্ণ নবান্নকে।
টাটা যে ট্রাইবুনালে জিতেছে তা তারাই স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে জানিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ট্রাইবুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মত ভাবে তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। টাটা মোটরস লিমিটেড (Tata Motors Limited -TML) এবং পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের (West Bengal Industrial Development Corporation Limited - WBIDC) মধ্যে এই মামলা চলছিল। টাটার বক্তব্য ছিল, সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানা তৈরি করতে গিয়ে তাদের মূলধন খাতে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির দায় রাজ্য সরকারের।
এই মামলায় টাটা গোষ্ঠী শুধু জেতেনি, মামলা লড়ার খরচ বাবদও ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে তারা। তবে টাটা মোটরস স্টক এক্সচেঞ্জে যে ফাইলিং করেছে তাতে স্পষ্ট নয় যে ৭৬৬ কোটি টাকার উপর ৭ বছর ধরে ১১ শতাংশ হারে তারা সরল সুদে ফেরত পাবেন না কমপাউন্ড ইন্টারেস্ট দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে।
সিঙ্গুরে টাটা মোটরসকে ১ হাজার একর কৃষি জমি দিয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার। তাঁর সেই পদক্ষেপ নিয়ে দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বুদ্ধদেববাবু। শুধু তাই নয়, গায়ের জোরে শিল্পের জন্য কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা যে ভুল নীতি ছিল তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল পলিটব্যুরোও।
সোমবার ট্রাইবুনালের রায়ের পর প্রবীণ এক বাম নেতা বলেন, বুদ্ধদেব বাবু রাজ্যে শিল্প আনতে চেয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু পথ ছিল ভুল। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জমি অধিগ্রহণ করলে এই সমস্যা কখনওই হত না।