
সুধা মূর্তি।
শেষ আপডেট: 19 August 2024 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাখিবন্ধন কতটা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, কতটা ঐতিহ্য বহন করে এই একটা সুতো-- সেই পাঠ দিতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন রাজ্যসভার সাংসদ সুধা মূর্তি।
আজ, সোমবার রাখি উপলক্ষে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাতে বলেন, ‘রাখিবন্ধন আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বোনেরা তাদের ভাইদের হাতে সুতো বেঁধে আশ্বস্ত হয়, যখনই সে কোনও প্রতিকূলতার মধ্যে পড়বে, যেন তার ভাই তাকে রক্ষা করে।’
তবে কেবল এই কথা নয়, এর পাশাপাশি ইনফোসিস চেয়ারম্যানের স্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে ভাগ করে নেন ঐতিহ্যবাহী এই পরম্পরার নেপথ্য কাহিনিও। তিনি বলেন, ‘তখন মেবারের রানি কর্ণবতীর রাজ্যপাট বিপদে পড়ে। রানি বুঝে উঠতে পারেননি কী করা উচিত। এই পরিস্থিতিতে কর্ণবতী একটি ছোট সুতো মোঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পাঠান, এবং বলেন, তাঁকে নিজের বোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যেন রক্ষা করেন। হুমায়ুন প্রথমে এই সুতোর অর্থ না বুঝলে, তাঁকে বোঝানো হয়, বোনের তরফে আসা বার্তার কথা। সব শুনে সম্রাট রানি কর্ণবতীকে সাহায্য করতে দিল্লি ছাড়েন। কিন্তু ঠিক সময়ে মেবার পৌঁছতে না পারায় কর্ণবতী মারা যান।’
Raksha Bandhan has a rich history. When Rani Karnavati was in danger, she sent a thread to King Humayun as a symbol of sibling-hood, asking for his help. This is where the tradition of the thread began and it continues to this day. pic.twitter.com/p98lwCZ6Pp
— Smt. Sudha Murty (@SmtSudhaMurty) August 19, 2024
সুধা মূর্তির এই কথারই বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ। তাঁদের মতে, রক্ষাবন্ধন শুরুর কাহিনি আদতে মেবারের নয়, বরং মহাভারতের সময়ের। শিশুপাল বধের সময়ে সুদর্শন চক্রে কৃষ্ণের আঙুলে ক্ষত তৈরি হলে দ্রৌপদী তাঁর পোশাকের একটি অংশ ছিঁড়ে ওই ক্ষতে বেঁধে দেন। কৃতজ্ঞ কৃষ্ণ আশ্বাস দেন, যখনই দ্রৌপদী বিপদের সম্মুখীন হবেন, তিনি তাঁকে রক্ষা করবেন। যার ফলস্বরূপ বস্ত্রহরণের সময় দ্রৌপদীর সম্মান বাঁচাতে আমরা কৃষ্ণর ভূমিকা পাই।
কেউ কেউ আবার বলেন, শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিতে কট্টর বিষ্ণুভক্ত রাজা বালির হাতে রাখি বেঁধে দেন লক্ষ্মী। তারপর থেকেই প্রথা হয়ে যায় শ্রাবণ পূর্ণিমায় হাতে রাখি বাঁধার ঐতিহ্য।