প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, স্কুলের ছাদ ও দেওয়ালের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক মাস আগে কিছুটা প্লাস্টার ও সিমেন্টের কাজ হয়েছিল, কিন্তু তাতে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
.jpeg.webp)
ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 26 July 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও সকাল সকাল স্কুলে এসেছিল পড়ুয়ারা। প্রার্থনার সময় যখন মাথার উপর থেকে চাঙড় খসে পড়ার ইঙ্গিত পাচ্ছিল, ছুটে গিয়েছিল শিক্ষকদের কাছে। কিন্তু সকলেই তখন ব্যস্ত সকালের জলখাবারে। শিশুদের সতর্কবার্তা উড়িয়ে তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন তাঁরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ। শুক্রবার সন্ধেয় তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় পিম্পলোদ গ্রামে। চারদিকে কান্না, শোক আর ক্রোধের সুর। বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিভাবকরা, ভাঙচুর পুলিশের গাড়ি।
রাজস্থানের জালাওয়ার জেলার পিম্পলোদ গ্রামের এক সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শুক্রবার সকালে ছাদ ধসে মৃত্যু হয়েছে সাত পড়ুয়ার। আহত কমপক্ষে ২৭ জন। তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। স্কুলের অভিভাবকদের একাংশ এবং গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। সরকারি উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তারা ভাঙচুরও চালান। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠে চরম গাফিলতির অভিযোগ।
এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র জানিয়েছে, প্রার্থনার সময় তারা ক্লাসরুমে বসেছিল। তখন মাথার উপর থেকে পাথরের কুচি পড়তে শুরু করে। তারা গিয়ে শিক্ষকদের জানায়, কিন্তু তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে বকা দেন এবং বলেন চুপচাপ গিয়ে বসতে। ওঁরা তখন সকালের খাবার খাচ্ছিলেন বলে জানায় সে। একটু পরই দেওয়াল ভেঙে ছাদ ধসে পড়ে। অনেকে পালিয়ে বাঁচলেও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়। পরে গ্রামবাসীরা এসে উদ্ধার করে।
প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, স্কুলের ছাদ ও দেওয়ালের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক মাস আগে কিছুটা প্লাস্টার ও সিমেন্টের কাজ হয়েছিল, কিন্তু তাতে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশুদের সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসন শিক্ষা দফতরের পাঁচ জনকে বরখাস্ত করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল নেগলিজেন্স’ বা ফৌজদারি গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
জালাওয়ারের জেলা শাসক অজয় সিং রাঠৌর বলেন, 'আমরা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম, কোনও ভগ্নপ্রায় স্কুল ভবনে পড়ুয়াদের বসানো যাবে না। কেউ যেন তা করলে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। কিছু স্কুল মেরামতও করা হয়েছিল। এখানেও শিক্ষকদের তরফে গাফিলতি রয়েছে। পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে বলেন, 'পিম্পলোদ গ্রামের স্কুলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। ছোট ছোট প্রাণের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।'
কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলট বলেন, 'এই ঘটনা রাজস্থানের উপর এক কালো দাগ। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি এখন রাজ্য এবং কেন্দ্র, দুই জায়গাতেই ক্ষমতায়। এই সরকারই তো গত দেড় বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এতদিনে কী করে জানা হয়নি কোন স্কুলগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে? এত শিশুর প্রাণহানির দায় কী ভাবে এড়ানো যাবে?'
একজন ছাত্রের আত্মীয় বলেন, 'আমরা বহুবার জানিয়েছিলাম স্কুল ভবনের বিপজ্জনক অবস্থার কথা। কিন্তু কেউ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।'
গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে, শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।