যোগীর নির্দেশিকায় রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে, দোকানের নাম ঝোলানো এবং যাত্রাপথে মাংস বিক্রি বন্ধের মতো বিষয়গুলি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

যোদী আদিত্যনাথ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 26 June 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁওয়ার যাত্রা ঘিরে এবার আগেভাগেই কড়া বার্তা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধর্মীয় ভক্তিভাব বজায় রাখতেই কিছু কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, যাত্রাপথে খোলা মাংস বিক্রি একেবারেই চলবে না। দোকানগুলিতে স্পষ্টভাবে দোকানের মালিকের নাম ঝোলানো বাধ্যতামূলক।
যোগীর এই নির্দেশিকায় রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে, দোকানের নাম ঝোলানো এবং যাত্রাপথে মাংস বিক্রি বন্ধের মতো বিষয়গুলি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
সমাজবাদী পার্টির নেতা ফখরুল হাসান চাঁদ প্রশ্ন তুলেছেন, 'যাঁরা প্রতিদিন রোজগার করে সংসার চালান, তাঁদের কী হবে? দোকান বন্ধ থাকলে তাঁদের পরিবার খাবে কী?' তাঁর আরও দাবি, 'যদি দোকানের নাম লেখার নিয়ম হয়, তাহলে সেটা সকলের জন্যই হোক। কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই নির্দেশ যেন না হয়।'
তবে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যোগী সরকারের মন্ত্রী জয়বীর সিং বলেন, 'কাঁওয়ার যাত্রা হিন্দুদের এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থযাত্রা। এই সময়ে দোকানে নাম ঝোলানো নিয়ে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। যেহেতু এই যাত্রার সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় ভাবনা জড়িয়ে, তাই মাংসের দোকান বন্ধ রাখা জরুরি। আর নিজের পরিচয় লুকিয়ে লাভ নেই, তাই নাম ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কথা মনে করিয়ে দেন। জানান, কাঁওয়ার যাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা থাকা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে মনে রাখতে হবে, দেশের শীর্ষ আদালত-সুপ্রিম কোর্ট-এমন বিষয়ে আগেই কিছু স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর সংযোজন, 'যোগী আদিত্যনাথ একজন অভিজ্ঞ মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় আট বছর ধরে রাজ্য চালাচ্ছেন। নিশ্চয়ই তিনি জানেন, সুপ্রিম কোর্টের কথাই শেষ কথা।'
উল্লেখ্য, এবার কাঁওয়ার যাত্রায় রেকর্ডসংখ্যক ভক্ত অংশ নেবেন বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তার বলয় আরও শক্ত করতে চাইছে যোগী সরকার। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে যাতে সংখ্যালঘু বা ছোট ব্যবসায়ীদের উপর কোনওরকম চাপ তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে প্রশাসনকেই।