
শেষ আপডেট: 7 November 2023 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই ১৯৭০ থেকে শুরু! অধিকার আদায়ে তখন থেকেই নিয়ম করে ভোটে দাঁড়িয়ে চলেছেন তিতার সিং। কিন্তু ৫০টা বসন্ত পার করেও একটি বারের জন্য জয়ের মুখ দেখেননি। তিনি ভোটে দাঁড়ালেই হারবেন, এ যেন নিয়ম হয়ে গেছে। এমনকী, শুধু হার নয়, এমন গোহারা হার, যে প্রতিবারই তাঁর জামানত জব্দ হয়েছে। তবু হাল ছাড়েননি ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। রাজস্থানের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও আরও একবার ভাগ্য পরীক্ষা করবেন বলে মনস্থ করেছেন তিনি।
তিতার সিং দিনমজুরের কাজ করে পেট চালান। আগামী ২৫ নভেম্বর রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে করণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। গত ৫০ বছর ধরে পঞ্চায়েত স্তর থেকে লোকসভা পর্যন্ত ২০টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিতার সিং। প্রতিটিতেই হেরেছেন। তবু আবার ভোটে দাঁড়াবেন? কেন?
তিনি জানিয়েছেন, তিনি অর্থের লোভে কিংবা জনপ্ৰিয়তা পাওয়ার জন্য ভোটে দাঁড়ান না। "কেন লড়ব না? সরকারের দায়িত্ব হল মানুষের জন্য কাজ করা। জমি, খাবার এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া। নির্বাচন সেই অধিকার আদায়ের লড়াই,'' জানিয়েছেন বৃদ্ধ। তাঁর কাছে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অধিকার অর্জনের একটি অস্ত্র, যে অস্ত্র বয়সের সঙ্গে ভোঁতা হয়ে যায়নি।
রাজস্থানের '২৫এফ' গ্রামের বাসিন্দা তিতার দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। ১৯৭০ সালে তিতার যখন দেখেন, ক্যানাল কমান্ড এলাকায় সরকার যে জমি বরাদ্দ করছে সাধারণ মানুষের জন্য, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দলিতরা। তারপরেই প্রথমবার ভোটে দাঁড়াবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন তিতার। তাঁহার দাবি ছিল সরকার যেন ভূমিহীন ও দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য জমি বরাদ্দ করে। সেই শুরু, তারপর থেকে যতবার সুযোগ এসেছে, একবারও ছাড়েননি তিতার। প্রত্যেকবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং হেরেছেন।
তিতার জানিয়েছেন, গরিব শ্রমিকদের জমি বরাদ্দের জন্য তাঁর দাবি এখনও পূরণ হয়নি এবং তাঁর ছেলেরাও দিনমজুর হিসাবে কাজ করে। সংবাদ সংস্থাকে তিতার সিং জানিয়েছেন, তাঁর তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। তাঁর নাতি-নাতনিরাও বিয়ে করেছেন। এই মুহূর্তে আমানত মূলধন হিসাবে তাঁর কাছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ রয়েছে। তবে কোনও জমি, সম্পত্তি বা যানবাহন নেই।
এর আগে ২০০৮, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন তিতার। ২০০৮ সালে ভোট পেয়েছিলেন ৯৩৮টি। পরের বিধানসভা নির্বাচনে সেই সংখ্যা আরও কমে হয় ৪২৭। ২০১৮ সালে ৬৫৮টি ভোট পেয়ে হেরে যান তিতার।
এমনিতে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (MGNREGA)- এর অধীনে দিনমজুর হিসাবে কাজ করেন তিতার। তবে নির্বাচন এলেই পুরোদমে ভোটপ্রচারের কাজে লেগে পড়েন। এবারের অন্যথা হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে এবারেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি এবং কোমর বেঁধে পূর্ণ উদ্যমে জেতার লক্ষ্যে প্রচার শুরু করেছেন।