
২৮ সপ্তাহে গর্ভপাতের অনুমতি!
শেষ আপডেট: 21 February 2025 07:41
মুম্বইয়ের জেজে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই তরুণীকে খতিয়ে দেখেছেন। সেখানকারই মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছে কোর্ট। সেই রিপোর্টে বলা হয়, এই সময়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি সন্তান প্রসবেরই সমতুল্য। এমনও হতে পারে, গর্ভপাতের পরে ভ্রূণটির দেহে প্রাণও রইল। সে ক্ষেত্রে নবজাতককে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।
পাশাপাশি, আদালত আরও স্পষ্ট করে জানতে চায় যে, এই গর্ভপাতের কারণে ভবিষ্যতে ওই তরুণীর মা হওয়ার ক্ষমতা প্রভাবিত হবে কিনা। চিকিৎসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের কথাও বলে আদালত এবং জানতে পারে যে, চিকিৎসা বোর্ডের প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
এর পরে সব দিক খতিয়ে দেখেও আদালত গর্ভপাতের অনুমতি দেয়। এছাড়া, আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, মামলার তদন্তের স্বার্থে ভ্রূণের ডিএনএ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি আবেদনকারী তরুণী সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে সেই সন্তানকে দত্তক দিতে চান, তবে সরকার তার আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে এবং এর জন্য আবেদনকারীর উপর কোনও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না।
বর্তমানে আবেদনকারী তরুণী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে তিনি সেখানেই গর্ভপাত করাতে চান বলে জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে সরকার পরিচালিত হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তরুণীর আইনজীবী অ্যাশলে কুশার জানান, তরুণী এবং এক ২১ বছর বয়সি যুবকের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি, যিনি তরুণীর ভাইয়ের বন্ধু, তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর পরে অবাধ মেলামেশায় তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পরে সে কথা জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাও দায়ের হয়।
প্রসঙ্গত, ভারতে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত কোনও চিকিৎসকের অনুমতি পেলেই গর্ভপাত করানো যায়। এর পরে ২০-২৪ সপ্তাহের মধ্যে দু'জন চিকিৎসকের মতামত প্রয়োজন এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত। যেমন—গর্ভবতীর প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা, গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ঝুঁকি, বা ভ্রূণের বড় কোনও ত্রুটির ঝুঁকি না থাকলে তবেই অনুতি মেলে। তবে ২৪ সপ্তাহের পর কেবল গুরুতর ভ্রূণগত ত্রুটি বা মাতৃস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকলে তবেই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়। আদালতের অনুমতিও প্রয়োজন হয়।
এই মামলায় ২৮ সপ্তাহের গর্ভপাতের আবেদনে বিচারপতিরা তাঁদের রায়ে স্পষ্ট করেছেন, আবেদনকারীর শারীরিক ও মানসিক কল্যাণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সিদ্ধান্তের জন্য এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।