1.webp)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 April 2024 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের পর সোমবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে মহিলাদের অলঙ্কার চুরির চেষ্টার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে এদিন ভোটপ্রচারে এসে মোদী বলেন, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা আপনাদের মঙ্গলসূত্র, কানের দুল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। আপনাদের সঞ্চিত সম্পদ হাতানোর মতলবে আছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে পাশে বসিয়ে মোদী মুসলিম ভোটার প্রভাবিত আলিগড়ের মহিলাদের বলেন, ওরা আপনাদের ধনসম্পদ কেড়ে নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলছে। মুসলিম মহিলাদের আবেগকে নাড়া দিতে বলেন, আগে তিন তালাক কীভাবে মেয়েদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। কিন্তু, বিজেপি সরকার এসে সেই তিন তালাক তুলে দেওয়ায় মুসলিম মা-বোনরা স্বস্তি পেয়েছেন। রক্ষা পেয়েছেন।
মোদী জোর দিয়ে বলেন, আমরাই ক্ষমতায় এসে মুসলিম মহিলাদের একা হজ যাত্রার নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছি। আমাদের সরকারই হজ যাত্রার কোটাও বাড়িয়েছে আমার সরকার। ভিসা বিধি অনেক শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, এদিনের ভাষণের আগাগোড়াই ধর্মকে প্রচারের হাতিয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাহুল গান্ধীর নাম না করে মোদী বলেন, কংগ্রেসের শাহজাদারা ক্ষমতায় এলে নাগরিকদের সম্পদ হাতানোর আইন আনবে বলছে। কংগ্রেস এবং শরিকদের নজর পড়েছে আপনাদের রোজগার এবং সম্পদের উপর। শাহজাদা বলছেন, সরকারে এলে তাঁরা মানুষের কাছে কী কী আছে তা দেখবে। এবং সেই সমস্ত সম্পদ সরকারের কবজায় এনে সকলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।
মোদী আরও বলেন, মহিলারা মঙ্গলসূত্র পরেন কেবলমাত্র গয়না হিসেবে নয়। এটাকে স্ত্রীধন বলে। এখন ওরা চাইছে আইন পরিবর্তন করে আমাদের মা-বোনেদের গলা থেকে মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেবে।
অথচ, মোদী তাঁর চিরাচরিত ভঙ্গিতে বলেন, অথচ এই পরিবারগুলি মানুষের অর্থ লুট করে এক-একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এইসব পরিবারবাদীদের মানুষ এখন চিনে ফেলেছে। এই রাজ্যে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির শিল্পে আপনারা যে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, সেই তালার চাবি এখনও খুঁজে পাচ্ছেন না দুই শাহজাদা (রাহুল গান্ধী ও সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব)।
উল্লেখ্য, আলিগড়ের অন্তর্গত আটরৌলি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, প্রয়াত বিজেপি নেতা কল্যাণ সিং ১০ বারের বিধায়ক ছিলেন। আলিগড়ের ধর্মীয় বিভাজনটিও অন্য কেন্দ্রের থেকে আলাদা। এখানে মুসলিম এবং তফসিলি জাতি ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৩ লক্ষ করে। তফসিলি ভোটারের মধ্যে আড়াই লক্ষ হল জাঠ। যারা বহুজন সমাজ পার্টির ঘনিষ্ঠ। বাকি ৮০ হাজার ভোটার বাল্মিকী সম্প্রদায়ের, তাঁরা বিজেপি ঘেঁষা।
হ্যাটট্রিকের পথ চেয়ে থাকা বিজেপির সাংসদ সতীশ গৌতমের ভোটবাক্স হল ৭ লক্ষের মতো ব্রাহ্মণ, বৈশ্য এবং ঠাকুর। এই অবস্থায় বসপা আচমকা মুসলিম প্রার্থী পরিবর্তন করে একজন ব্রাহ্মণকে এখানে প্রার্থী করায় জাতপাতের রাজনীতির মুখ ঘুরে গিয়েছে।