
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 September 2024 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ছাত্র মৃত্যু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র তৈরির হাব রাজস্থানের কোটায়। বুধবার কোটায় ভাড়া বাড়িতে এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ২১ বছর বয়সি ওই পড়ুয়া। তিনি মেডিক্যালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই নিয়ে চলতি বছর ১৩ জনের মৃত্যু হল কোটায়। এরা সবাই NEET-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
জানা গিয়েছে, মৃত পড়ুয়া পরশুরাম আদতে উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা। তিনি ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এন্ট্রান্স টেস্টের জন্য তৈরি হতে মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোটায় এসেছিলেন।
বাড়ির মালিক অনুপ কুমার জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধেবেলায় কাপড় মেলতে দেখা গিয়েছিল পরশুরামকে। তারপর আর বেরোতে দেখা যায়নি। সেই দেখেই সন্দেহ হয়। দরজা ধাক্কা দিলে ভিতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় রাত ১১টা ৩০ নাগাদ বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি।
পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে খবর দেয়। দেহটি এমবিএস হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। বাবা-মা কোটায় এসে পৌঁছলে ময়নাতদন্ত শুরু হবে।
কোটার কোচিং সেন্টারগুলি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র তৈরি করে। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেলেমেয়েরা NEET-এর প্রস্তুতি নিতে রাজস্থানের এই এলাকায় আসে। প্রতি বছরই পড়ুয়াদের আত্মহত্যার খবর উঠে আসে। যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় হয় শিক্ষামহল। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। অনেকেই এই আত্মহত্যার পিছনে কোচিং সেন্টারগুলির অতিরিক্ত চাপকে দায়ী করে।
কোটার কোচিং সেন্টারগুলি কি সত্যিই পড়ুয়াদের পড়াশোনার যোগ্য? নাকি সেগুলি এক একটা ফ্যাক্টরি? এই নিয়ে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট কিছু মতামত দেয়। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোটায় এই এত আত্মহত্যার পিছনে কোচিং সেন্টারের চাপ নয়, দায়ী অভিভাবকরা। পরিবারের চাপ, না পারার হতাশায় চরমতম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে তরুণ তরতাজা প্রাণগুলি।
গত বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল কোটায়। উচ্চশিক্ষার দৌড়ে পাল্লা দিতে না পেরে ২৬ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১৫ জন, ২০১৯ সালে ১৮ জন, ২০১৮ সালে ২০, ২০১৭-তে ৭, ২০১৬-তে ১৭, ২০১৫ সালে ১৮ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে কোটায়। শুধুমাত্র ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিডের কারণে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকায় কোনও প্রাণ যায়নি।