
শেষ আপডেট: 28 December 2023 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচলিত বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা আর ধর্মের কচকচির মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন তিনি। জন্মসূত্রে মুসলিম হলে কী হবে, শবনম সেই ছোট্টবেলা থেকে ভগবান রামের একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক হতেই আর অপেক্ষা করতে পারেননি তরুণী। হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে সুদূর মুম্বই থেকে অযোধ্যার উদ্দেশে ইতিমধ্যেই হাঁটতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। হ্যাঁ, পায়ে হেঁটেই ১৪২৫ কিলোমিটার রাস্তা পেরোনোর পরিকল্পনা রয়েছে শবনমের।
ধর্ম পরিচয় হিসেবে শবনম একজন মুসলিম। তবে ঈশ্বরকে ভালবাসায় জাত-ধর্ম কোনও অন্তরায় হতে পারে বলে মনে করেন না তরুণী। নিষ্পাপ বিশ্বাস আর ভালবাসাই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা বলে মনে করেন তিনি। শবনম গর্ব করেই বলেন, রামের পুজো করার জন্য হিন্দু হতে হয় না। ভাল মানুষ হলেই চলে।
নিজের ভক্তি আর বিশ্বাসকে সঙ্গী করে ইতিমধ্যেই মুম্বই থেকে হাঁটতে হাঁটতে মধ্যপ্রদেশের সিনধাওয়াতে পৌঁছে গেছেন শবনম। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দুই বন্ধু রামনরাজ শর্মা এবং বিনীত পান্ডে। তিনজন মিলে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ হাঁটছেন। পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিচ্ছেন ভগবান রামই, এমনটাই মনে করেন শবনম।
তাঁদের এই অদ্ভুত অ্যাডভেঞ্চারের গল্প ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাঁদের সঙ্গে দেখাও করছেন। নেটিজেনদের একাংশ যেমন শবনমকে প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করেছেন, তেমন বিদ্রূপে বিদ্ধ করেছেন, এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
তবে কটু কথায় তখন পাত্তা দিতে নারাজ তরুণী। বরং, এমন অনেকের সঙ্গেই শবনমের দেখা হয়েছে, যাঁরা ধর্ম বিশ্বাসের মুসলিম হয়েও 'জয় শ্রীরাম' সম্ভাষণে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁদের। তরুণী জানিয়েছেন, ঈশ্বর দর্শনের পাশাপাশি তিনি একটি প্রচলিত ধারণাও ভাঙছেন। শুধুমাত্র ছেলেরাই যে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে এমন অ্যাডভেঞ্চারে বেরোতে পারে, সেই ভাবনাকেও ভুল প্রমাণিত করছেন শবনম।
পথে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা। তবে পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফে যথেষ্ট সাহায্য পাচ্ছেন বলে দাবি শবনমের। এমনকী, পুলিশের তরফে তাঁদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তরুণী।
কবে তাঁরা অযোধ্যা গিয়ে পৌঁছাতে পারবেন সেই সঠিক তারিখ এখনও জানাতে পারেননি শবনম। তবে তিনি এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২২ তারিখ অর্থাৎ রাম মন্দির উদ্বোধনের দিনই যে সেখানে গিয়ে পৌঁছাতে হবে, এমন কোনও লক্ষ্য নেই তাঁদের। ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক চেতনার টানেই তাঁর রাম দর্শন। তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছাতে পারাটুকুই আসল।