
শেষ আপডেট: 1 February 2024 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেমন্ত সরেনকে দিয়েই শেষ হচ্ছে না ইডি, সিবিআইয়ের অভিযান। ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, আরও অন্তত হাফ ডজন নেতা লোকসভা ভোটের আগে বিপাকে পড়তে পারেন।
এই তালিকায় আছেন তেলেঙ্গানার সদ্য নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, কেরলের পিনারাই বিজয়ন, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারে লালুপ্রসাদ যাদব ও তাঁর পুত্র তেজস্বী প্রমুখ।
১৯৯৭ সালে লালু প্রসাদের পর হেমন্ত সরেন হলেন দ্বিতীয় নেতা যাঁকে কার্যত মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় লালু প্রসাদকে তবু আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আগে তিনি স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করে দেন। হেমন্তকে ইডি আগেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। তদন্তকারীদের হেফাজতে থাকাকালে তিনি পদত্যাগ করেন। এমন ঘটনা নজিরবিহীন। আপ নেতৃত্বের আশঙ্কা এরপর একই পরিণতি হতে পারে কেজরিওয়ালেরও। হেমন্তের মতো তিনিও বারে বারে ইডির তলব এড়িয়ে চলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্য এবং জোট রক্ষা নিয়ে বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মলিকার্জুন খাড়্গের বাড়িতে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেন সনিয়া গান্ধী, সীতারাম ইয়েচুরি, ডিএমকে নেতা টিআর বালু প্রমুখ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন রাহুল গান্ধী।
আগামীকাল শুক্রবার রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা ঝাড়খণ্ডে প্রবেশ করবে। তাঁর আগে হেমন্তের গ্রেফতারি ওই রাজ্যে ইন্ডিয়া জোট নিয়ে জটিলতা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেলেঙ্গানার নতুন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্তের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পুনরাইয়ের মেয়ের কোম্পানির বিরুদ্ধে বেআইনি লেনদেনে যুক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ইডি-সিবিআই। কংগ্রেসের অভিযোগ, ওই কেলেঙ্কারিতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যুক্ত। কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, পিনারাই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিইফ জোটের দিল্লিতে রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পিনারাই কন্যাকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি নোটিস পাঠানোর পর বিক্ষোভ আন্দোলন ধর্না কর্মসূচিতে বদলে দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় খাড়্গের বাড়িতে আলোচনা হয় দুর্নীতির অভিযোগকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে। ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের দুটি সমস্যা ভাবাচ্ছে। এক. গত বছর ১৪টি বিরোধী দলের তরফে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। ওই মামলায় দাবি করা হয়েছিল রাজনীতিকদের নির্বিচারে গ্রেফতার, তাঁদের কথায় কথায় তদন্তের মুখে ফেলা বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করুক আদালত। শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। ইডির আইনের কঠোর ধারাও বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।
দুই. দুর্নীতির ইস্যুতে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এক সুরে কথা বলতে পারছেন না। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্ব বিজেপির থেকেও চড়া সুরে সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাইয়ের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। বাংলায় তৃণমূল ও কংগ্রেসকে নিয়েও একই সমস্যা। বুধবার হেমন্ত সরেন গ্রেফতার হওয়ার পর রাহুল গান্ধী ও খাড়্গে বাদে সর্বভারতীয় আর কোনও নেতা জোরালো ভাষায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেননি।