কলেজ জীবনের অনেক স্মৃতি উজাড় করে দেশের প্রধান বিচারপতি শনিবার বলেন, পেশাজীবনে সফল-অসফলের সীমারেখা পরীক্ষার ফল দিয়ে নির্ধারিত হয় না। একজনের দৃঢ় সংকল্প, কঠিন পরিশ্রম, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দায়বদ্ধতা তৈরি করে সাফল্য।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজে ক্লাস কেটে আড্ডা দিতেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। সহপাঠীরা দিতেন হাজিরার ‘ইয়েস প্লিজ’! কলেজ জীবনের অনেক স্মৃতি উজাড় করে দেশের প্রধান বিচারপতি শনিবার বলেন, পেশাজীবনে সফল-অসফলের সীমারেখা পরীক্ষার ফল দিয়ে নির্ধারিত হয় না। একজনের দৃঢ় সংকল্প, কঠিন পরিশ্রম, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দায়বদ্ধতা তৈরি করে সাফল্য। তিনি বলেন, ছাত্রাবস্থায় আমি খুবই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ছেলেদের গুনতিতে পড়তাম। কিন্তু, ক্লাস কাটতাম।
পানাজির কাছে মিরামারে ভিএম সালগাঁওকর আইন কলেজের স্বর্ণজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণে এসব গোপন ও মজার কথা তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি গাভাই। তাঁর কথায়, আইন শিক্ষা ব্যবস্থা এক দৃষ্টান্তমূলক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। তাই তোমরাও পরীক্ষায় কী ব়্যাঙ্ক করলে সেদিকে তাকিও না। পরীক্ষার ফল কখনও সাফল্যের পথের অন্তরায় হতে পারে না।
সিজেআই বলেন, ভাল ছাত্র হলেই সে যে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করবে, তা নাও হতে পারে। এটা তোমরা নিজেরা ঠিক করবে। তোমাদের ভিতরকার শক্তি ঠিক করবে। তোমার শ্রম, নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা ঠিক করবে ভাগ্য ও সাফল্য। এগুলিই তোমার ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে। তাই ভাল ফলের দিকে না ছুটে যা হতে চাও সেদিকে লক্ষ্য করে ছোট।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি কলেজে অসাধারণ ছাত্র ছিলাম। কিন্তু, ক্লাস ফাঁকি দিতাম। তাই বলে বলছি না যে, তোমরা আমাকে অনুসরণ করো। মুম্বইয়ের সরকারি আইন কলেজে পড়ার সময় তিনি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজ চত্বরের ওয়েলে বসে আড্ডা দিতেন একথা জানান। বলেন, আমার ভরসা ছিল বন্ধুরা। ওরাই আমার হয়ে হাজিরা দিয়ে দিত ক্লাসে।
স্মৃতির সরণি বেয়ে পিছন দিকে হেঁটে গিয়ে বলেন, আইন পড়ার শেষ বছরে আমি অমরাবতী চলে যাই। আমার বাবা ছিলেন মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান। মুম্বইয়ে আমাদের একটি বাড়িও ছিল না। আমি যখন অমরাবতী চলে এলাম, তখন আমি হয়তো বার ছয়েক কলেজে যেতে পেরেছি। সেই সময় আমার এক বন্ধু, যে পরে হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছে, সে আমার হয়ে হাজিরা দিয়ে দিত।
প্রধান বিচারপতির বাবা আর এস গাভাই পরে বিহার, সিকিম এবং কেরলের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, যে ছাত্রটি শীর্ষ স্থান পেয়েছিল সে ফৌজদারি আইনজীবী হয়ে যায়। আর দ্বিতীয় স্থান পাওয়া ছেলেটি হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছিল। আর তৃতীয় স্থান পাওয়া এই আমি এখন ভারতের প্রধান বিচারপতি।
তিনি গোপন ফর্মুলাটাও বাতলে দেন কলেজ ছাত্রদের সামনে। বলেন, আমি বাড়িতে বসে বই পড়তাম এবং পাঁচ বছরের প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখা প্র্যাকটিস করতাম। তিনি বলেন, এখন আমি যখন নকল আদালতে ছাত্রছাত্রীদের সওয়াল-জবাব শুনি, তখন ভাবি কেন প্রবীণ আইনজীবীরাও এইসব কচিকাঁচা ভবিষ্যতের আইনজীবীদের কাছ থেকে সওয়াল-জবাব শিখে যান না। ফলে, ওকালতি হল হাতেকলমের কাজ। সেখানে রেজাল্ট দিয়ে কিছু হওয়ার নয়।