
দীপালি সাহ।
শেষ আপডেট: 27 February 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের জেহানাবাদে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের প্রবেশনারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করল কর্তৃপক্ষ। বিহার ও বিহারের মানুষকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বাংলার বাসিন্দা দীপালি সাহ নামে ২৪ বছরের ওই তরুণী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। দীপালি তাঁর প্রথম কর্মক্ষেত্র বিহারে পড়ায় হতাশা প্রকাশ করে এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় শোনা গিয়েছে, তিনি বলছেন, প্রথম পোস্টিংয়ের জায়গা নিয়ে আমার সারা জীবন মনে থাকবে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের অনেকগুলি রিজিওন আছে। যার মধ্যে কলকাতা রিজিওনকে অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু, আমি কলকাতা আঞ্চলিক কার্যালয়কেও মেনে নিতে রাজি। আমি কলকাতা, ওড়িশা, হিমাচল প্রদেশ এমনকী লাদাখেও যেতে রাজি আছি। যেখানে কেউ যেতে চায় না, সেখানে যেতে রাজি। কিন্তু বিহার নয়।
দীপালি আরও বলেন, এর মূল কারণ হল বিহারের মানুষের কোনও নাগরিক বোধ নেই। বিহারের লোককে সোজা কথায় অসভ্য বলতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভারত এখনও উন্নয়নশীল দেশ রয়ে গিয়েছে, কেবলমাত্র বিহারের জন্য। আমরা যেদিন বিহারকে মানচিত্র থেকে বের করে দিতে পারব, সেদিনই ভারত উন্নত দেশের সারিতে চলে যাবে। তাঁর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই অনেকেই শিক্ষিকা হিসেবে একথা মানায় না বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
@KVS_HQ please take action against her.@bihar_police This teacher from KV Jehanabad is openly abusing Bihar. Please take action against her. https://t.co/479xt9uBxy
— आनंद जी (@krishnanandlkr) February 25, 2025
যদিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় এই ভিডিওটি এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির সমস্তিপুরের এমপি শম্ভাবী চৌধুরি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনকে কমিশনারকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। চৌধুরি লিখেছেন, এ ধরনের বক্তব্য বলা অনুচিত, গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত একজন শিক্ষিকা যিনি মূল্যবোধ ও জ্ঞান বিতরণ করেন তাঁর এই কাজ বিহারের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। সংস্থার প্রতি আস্থা ও ভরসার জায়গা রাখতে এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যেন পদক্ষেপ করা হয়।
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করেছে। সাসপেনশন নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রবেশনারি শিক্ষিকাকে ছাপড়ার মাশরাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। সাসপেন্ড অবস্থায় তিনি মাশরাক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের আগাম অনুমতি ছাড়া ছুটিতে যেতে পারবেন না। পুলিশও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি নোটিস পাঠায় দীপালিকে। সাইবার থানায় তাঁকে দেখা করতে বলা হলেও এখনও কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। জেহানাবাদ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আমরা সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছি।