
শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের ভাদেরওয়া।
শেষ আপডেট: 28 December 2024 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ এক অন্য কাশ্মীর। বোমা-বারুদের গন্ধ উধাও। বরফে আটকে পড়া ভিনরাজ্যের পর্যটকদের পাশে দাঁড়ালেন কাশ্মীরি জনতা। দুর্যোগে অনভ্যস্ত হাজার হাজার বিভ্রান্ত পর্যটকের জন্য খুলে দেওয়া হল মসজিদের দরজাও। সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবারকে তাঁদের বাড়িতে থাকতে দিচ্ছেন। গরম পোশাক, খাবার, পানীয় জল দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক মুখের পরিচয় দিলেন। কাশ্মীরি আতিথ্য কাকে বলে তা নিজের ঘর ছেড়ে বেড়াতে যাওয়া হাজারো মাইল দূরে টের পেলেন পর্যটকরা।
শ্রীনগর-সোনেমার্গ হাইওয়ের ধারে ছোট্ট একটি জনবসতির নাম গুন্ড। সেখানকার মসজিদ কমিটি বিপদের সম্মুখীন পর্যটকদের জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিয়েছে। ভারী তুষারপাতে এখানে আটকে রয়েছেন বেশ কিছু পর্যটক। তাই তাঁদের আপাতত বাঁচার মতো পরিবেশ দিয়েছে মসজিদ কমিটি। পাঞ্জাব থেকে আসা প্রায় জনা ১২ পর্যটক সোনেমার্গ ঘুরে ফেরার পথে তুষারপাতে আটকে পড়েন। তাঁদের গাড়ির চাকা বরফে বসে গিয়েছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়িও খুব ছোট। তাই জামা মসজিদে তাঁদের অস্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত খাবার, শিশুখাদ্য, পানীয় জল, গরম জল, গরম পোশাক।
বশির আহমেদ নামে এক গ্রামবাসী জানালেন, এটা ছাড়া আর কোনও রাস্তা ছিল না। মসজিদে একটি হাম্মাম রয়েছে। তাই বাইরে থেকে আসা কারও ঠান্ডায় অসুবিধাও হয়নি। গুন্ড হল সেই জায়গা, যেখান থেকে মাত্র ১০ কিমি ব্যবধানে গগনগিরে অক্টোবর মাসে স্থানীয় এক ডাক্তার সহ পাঁচ অ-কাশ্মীরিকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। মসজিদের ভিতরে পর্যটকদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এই উপকারের জন্য পর্যটকরাও স্থানীয়দের অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
হুরিয়ত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুক এক বার্তায় বলেছেন, এটাই কাশ্মীরের আতিথেয়তার নজির। বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোই কাশ্মীরের ঐতিহ্য। প্রয়োজনে আমরা অতিথির জন্য সবকিছু করতে পারি, তা দেখিয়ে দিয়েছেন এই মানুষরা। তুষারপাতে শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়েতে সারসার গাড়ি স্টার্ট বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। শ্রীনগরেও শনিবার রাস্তার ধারে দোকানদাররা গাড়িচলতি মানুষের হাতে ছোট ছোট খাবারের প্যাকেট ও পানীয় জলের বোতল জানালা দিয়ে গলিয়ে দেন।
সোনমার্গ রোডের গুন্ড, গগনগির, সোনেমার্গ, কুলান এবং রায়িল এলাকায় পর্যটকদের উদ্ধার ও ত্রাণে স্থানীয় মানুষ তুষারপাত উপেক্ষা করে নেমে পড়েন। স্থানীয়রাই পর্যটকদের রাতের আশ্রয়, খাবার ও উষ্ণতা দেন। শুধু একটি দুটি গ্রাম নয়, গান্ডেরবাল-সোনেমার্গ রোডের দুধারের প্রায় সব গ্রামবাসীই পর্যটকদের জন্য বাড়ির দরজা খুলে দেন। তাঁদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। দিল্লি থেকে আসা এমনই এক পরিবার কাশ্মীরি পরিবারের আতিথ্য গ্রহণ করে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে আসা পর্যটকের কথায়, স্থানীয়দের বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে শুধু কষ্ট লাঘব হয়েছে তাই নয়, সত্যিকারের কাশ্মীরের ছোঁয়া পেলাম আজ।