
শেষ আপডেট: 25 November 2023 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির সাংবাদিক সৌম্যা বিশ্বনাথন খুনে দোষী সাব্যস্ত চারজনকে যাবজ্জীবনের সাজা শোনাল দিল্লি সাকেত আদালত। মামলার পঞ্চম দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যেই পূর্ণ করে ফেলেছে। আদালতের ব্যাখ্যা, এই মামলাটি বিরলের মধ্যে বিরলতম নয়, তাই দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হল না।
সাংবাদিক সৌম্যা খুনে অভিযুক্ত রবি, অমিত, বলজিৎ, অজয় কুমার এবং অজয় শেট্টিকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির নিম্ন আদালত। এদের মধ্যে রবি, অমিত, বলবীর ও অজয় কুমারকে দুটি ভিন্ন খাতে ২৫ হাজার টাকা ও ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চম অপরাধী অজয় শেঠিকে ৭.৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এই অর্থের ৭.২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে নিহত সৌম্যার পরিবারকে।
দিল্লি আদালত এদিন রায়দানের সময় জানিয়েছে, ”এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, সৌম্যার কমবয়সি ও কঠোর পরিশ্রমী এক সাংবাদিককে তাঁর প্রাণ হারাতে হয়েছে। ভারতে মহিলাদের বাইরে বেরিয়ে কাজের আগ্রহ কমছে, এর কারণই হল মহিলারা তাঁদের কাজের জায়গায় ও বাইরে নানাভাবে নিগ্রহের শিকার।”
২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ থেকে ফেরার পথে রাত ৩টের সময় দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের কাছে খুন হয়েছিলেন বছর পঁচিশের টেলিভিশন সাংবাদিক সৌম্যা বিশ্বনাথন। একটি গাড়ির ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সৌম্যার মাথা ফুঁড়ে দিয়েছিল গুলি। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী জিগীষা ঘোষের মৃত্যুর তদন্তে নেমে সৌম্যার খুনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পায় পুলিশ। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁরা সৌম্যার খুনের সঙ্গেও যুক্ত। ২০০৯ সালে পেশ করা ৬২০ পাতার চার্জশিটে দিল্লি পুলিশ জানায় যে, ডাকাতি এবং লুটপাটের জন্যই সৌম্যাকে খুন করা হয়।
হাতের ট্যাটু এবং পুলিশের চুরি যাওয়া ওয়্যারলেস সেটই ধরিয়ে দিয়েছিল দিল্লির সাংবাদিক সৌম্যা এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী জিগীষার খুনিদের। তার পরই দিল্লি পুলিশের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) এইচজিএস ঢালিওয়াল এসিপি ভীম সিংয়ের নেতৃত্বে সেই খুনের তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করেন। একে একে ধরা পড়তে থাকে অভিযুক্তরা।