.webp)
শেষ আপডেট: 27 December 2023 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাদুসনুদুস তারা দেখলেই টেনে নিয়ে গিলে খায় ব্ল্যাকহোল। মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের শিকার ধরার ঘটনা বহুবার দেখেছে নাসার টেলিস্কোপ। অ্যানাকোন্ডার মতো শিকারি কৃষ্ণগহ্বর আবার নক্ষত্রের শরীর পেঁচিয়ে ধরে গপগপ করে গিলে খায়। ছিন্নভিন্ন তারার শরীর থেকে বেরিয়ে আসে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। আদিম, বুনো এক শিকারপর্ব চলছে মহাকাশে। ওঁৎ পেতে থেকে শিকার ধরছে দানবীয় ব্ল্যাকহোলেরা। এতদিন নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এইসব ব্ল্যাকহোলদের খোঁজ দিত। এবার ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো তার অত্যাধুনিক রকেট পাঠাচ্ছে কৃষ্ণগহ্বরদের ডেরায়।
দেশের প্রথম এক্সরে পোলারিমিটার স্যাটেলাইট বা এক্সপোস্যাট (XPoSat) উৎক্ষেপণ করতে চলেছে ইসরো। নতুন বছর ১ জানুয়ারি পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা পিএসএলভি রকেটে চাপিয়ে এক্সপোস্যাটকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছে দেবে। সেখানে বসেই নিউট্রন তারার জন্ম-মৃত্যু, কৃষ্ণগহ্বরদের শিকারপর্ব, মহাকর্ষীয় তরঙ্গের বিচ্ছুরণ দেখবে ইসরোর স্যাটেলাইট। খবর পাঠাবে পৃথিবীতে।
ভারতের তৃতীয় চন্দ্রযাত্রা সফল। চন্দ্রযান-৩ এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানের পরে এবার আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে ইসরো। সূর্যে যাচ্ছে সৌরযান আদিত্য এল-১। জানুয়ারির ৬ তারিখের মধ্য়েই সেটি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্টে গিয়ে পৌঁছবে। তারই মাঝে ব্ল্যাকহোল, নিউট্রন নক্ষত্রদের খবর আনতে মহাকাশে রকেট পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে ইসরো।
মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নিউট্রন তারা বা নিউট্রন স্টারেরা ভরে, আকারে সূর্যের চেয়েও বহুগুণ বড় হয়। এদের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্ল্যাকহোলরাও কিছু কম যায় না। তাদের অনেকেরই ভর সূর্যের ভরের চেয়ে প্রায় ২৩ গুণ বেশি। মহাকাশের দৈত্যাকার মহাজাগতিক বস্তুরা একে অপরের সঙ্গে নিরন্তর ধাক্কাধাক্কি করছে। এই সংঘর্ষের ফলে তৈরি হচ্ছে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ যা ঢেউয়ের মতো কম্পন তুলে ছড়িয়ে পড়ছে মহাশূন্যে। এই ঢেউয়ের কম্পনকেই বলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (Gravitational Wave)। আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদে এমন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এবার এরই খোঁজে মহাকাশে চোখ রাখবে ইসরোও।