অনেকেরই ধারনা হল ঘরোয়া বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলির মধ্যে ইন্ডিগো ভাল। কিন্তু এই নাকি ভালোর নমুনা? দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোতে (Indigo flight cancel) এখন চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত ধসে পড়েছে সংস্থার পরিষেবা। সারা দেশে ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে তোলপাড় চলছে। হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির একশেষ। কেবল দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ মিলিয়েই বাতিল হয়েছে অন্তত ১৯১টি ফ্লাইট।

সারা দেশে ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে তোলপাড় চলছে
শেষ আপডেট: 4 December 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেরই ধারনা হল ঘরোয়া বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলির মধ্যে ইন্ডিগো ভাল। কিন্তু এই নাকি ভালোর নমুনা? দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোতে (Indigo flight cancel) এখন চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত ধসে পড়েছে সংস্থার পরিষেবা। সারা দেশে ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে তোলপাড় চলছে। হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির একশেষ। কেবল দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ মিলিয়েই বাতিল হয়েছে অন্তত ১৯১টি ফ্লাইট।
DGCA-র তলব, তদন্তে নেমেছে এভিয়েশন ওয়াচডগ
চলতি বিশৃঙ্খলার মাঝে এভিয়েশন নজরদারি সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে। সংস্থার নভেম্বর মাসের কর্মক্ষমতা হঠাৎ কমে যাওয়ায় নজরদারিও শুরু করেছে তারা। ইন্ডিগো অবশ্য দাবি করেছে—তারা কোনও তদন্তের খবর জানে না, কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে।
কোন শহরে কত উড়ান বাতিল
দিল্লি: ৯৫টি (৪৮ ডিপারচার + ৪৭ অ্যারাইভাল)
মুম্বই: ৮৫টি
বেঙ্গালুরু: ৭৩টি
হায়দরাবাদ: ৬৮টি
পুনে: ১৬টি
আমদাবাদ: ৫টি
কলকাতা: ৪টি
এ ছাড়া কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ২৪টি ইন্ডিগো ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দু’টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। একটা সিঙ্গাপুর অন্যটি কম্বোডিয়ায় যাওয়ার কথা।
যাত্রীদের ক্ষোভ—ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা
বেশ কিছু বিমান দীর্ঘ সময় পার্কিং বে দখল করে থাকায় অন্য এয়ারলাইনগুলোর উড়ানও দেরি হচ্ছে। পুনে বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়া, আকাসা এয়ার ও স্পাইসজেটের সূচিও ব্যাহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
টানা দ্বিতীয় দিনে রেকর্ড বাতিল
বুধবার ইন্ডিগো ১০০-রও বেশি উড়ান বাতিল করেছিল। নভেম্বর মাসে সংস্থার বাতিলের সংখ্যা ছিল ১,২৩২—যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। সংস্থা জানিয়েছে, গত দু’দিনে নেটওয়ার্ক জুড়ে বহু ‘অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ’ একসঙ্গে দেখা দিয়েছে—হালকা প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন শিডিউল বদল, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমানবন্দর ভিড়, নতুন ক্রু রোস্টারিং নিয়মে সাময়িক সমস্যা ইত্যাদি কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য সংস্থা দুঃখ প্রকাশ করেছে।
পাইলট সংগঠনের বিস্ফোরক অভিযোগ
তবে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া পাইলোটস (FIP) সরাসরি ইন্ডিগোর ওপর অভিযোগ তুলেছে। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ফ্রিজ করে রেখেছে ইন্ডিগো। ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’ কর্মী। তা ছাড়া পাইলটদের বেতন স্থগিত রেখেছে সংস্থা। তাদের বক্তব্য, এ সবের ফলেই আজ অপারেশন ভেঙে পড়েছে।
যাত্রীদের অনিশ্চয়তা—কোথায় যাবে অবস্থা?
একদিকে বাতিল ও দেরির পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে সংস্থার ব্যাখ্যা যাত্রীদের অসন্তোষ কমাতে পারছে না। বিমানবন্দরে সারাদিন জুড়ে দেখা গিয়েছে—লম্বা লাইন, ক্রমাগত ঘোষণার বদল। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ইন্ডিগোর উপর বাড়ছে সরকারি চাপ, বাড়ছে প্রশ্নও—দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইনের পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে?