
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 May 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ২৫ জন পর্যটককে ধর্ম জিজ্ঞেস করে খুন করেছিল জঙ্গিরা (Jammu Kashmir Terror Attack)। শুধুমাত্র বেছে বেছে হিন্দু পুরুষ পর্যটকদের মারা হয়েছিল। সেই ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় 'অপারেশন সিঁদুর' (India Operation Sindoor) করে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত করেছে ভারত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই হামলায় ৭০ জন জঙ্গিকে খতম করা সম্ভব হয়েছে।
প্রথম থেকেই ভারত পহেলগাম হামলাকে পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাস হিসেবেই দেখেছে এবং তারই জবাব হিসেবে লস্কর সংগঠন ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর লজিস্টিক, প্রশিক্ষণ ও কম্যান্ডো সেন্টারকে ধ্বংস করে দেওয়াই ছিল 'অপারেশন সিঁদুর'-এর প্রধান উদ্দেশ্য। আর এই হামলা চালিয়ে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পাক সেনাঘাঁটি টার্গেট করা হয়নি। কেবলমাত্র সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ও জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পরপর মিসাইল অ্যাটাক হচ্ছে পাকিস্তানের ভূমিতে। ভারতের লক্ষ্যস্থল ছিল পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সুনির্দিষ্ট ৯টি জায়গা। তার মধ্যে ছিল বাহাওয়ালপুরের জইশ-ই-মহম্মদের সদরঘাঁটি, মুরিদকের লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র। পাশাপাশি কোটলি, সারজাল ইত্যাদি।
মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর - এই ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালিয়েছে ভারত। সূত্রের খবর, মূল হামলা চালানো হয়েছে ২৫ মিনিট ধরে। আর এই সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানকে কার্যত নরক দর্শন করিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ২৫ মিনিটে ৯টি জায়গায় ২৪ বার মিসাইল হামলা করা হয়েছে। এতেই নিকেশ হয়েছে ৭০ জন জঙ্গি বলে দাবি।
বুধবার রাত ১টা ৪৪ মিনিটের কিছু পর থেকে শুরু হয় এই যৌথ সামরিক অভিযান। দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র ব্যবহারে একযোগে হামলা চালানো হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে এই প্রথম এমন একত্র অভিযানের ঘটনা ঘটল ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর।
এই ধরনের স্ট্রাইকের ক্ষেত্রে সাধারণত এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় যার 'লং রেঞ্জ' থাকে। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। যে ধরনের মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল' এবং 'হামার বম্ব' এবং কামিকাজে ড্রোন।