হায়দরাবাদের সাইবারাবাদে ৫০ বছরের রেণু আগরওয়ালের নৃশংস খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। কলকাতার এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ঝাড়খণ্ডের দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনা ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 13 September 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে এক গৃহবধূর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। সাইবারাবাদের বহুতল আবাসনে ৫০ বছরের রেণু আগরওয়ালকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই গৃহকর্মীকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ পুলিশ দল ইতিমধ্যেই তাদের হায়দরাবাদে নিয়ে আসছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খুন ও ডাকাতির এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
তিন দিন আগে ঘটে যাওয়া এই হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আইটি হাব সাইবারাবাদে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহবধূ রেণু আগরওয়ালকে প্রথমে প্রেশার কুকার দিয়ে আঘাত করা হয়, তারপর ছুরি ও কাঁচি দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। খুনের পর অভিযুক্তরা প্রায় ৪০ গ্রাম সোনা ও নগদ ১ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, খুনের পর তারা গৃহবধূর ফ্ল্যাটের ওয়াশরুমেই স্নান করে। এমনকি জামাকাপড় বদল করে রক্তমাখা পোশাক ফেলে রেখে যায় ঘটনাস্থলে।
ঘটনার দিন বিকেলে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ি ফেরেন মহিলার স্বামী ও ছেলে। প্রধান দরজা বন্ধ থাকায় প্লাম্বারের সাহায্যে বারান্দা দিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকতেই দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, দুই সন্দেহভাজনই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। মাত্র ১০ দিন আগে কলকাতার একটি ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে রেণু আগরওয়ালের বাড়িতে কাজে ঢুকেছিল এক অভিযুক্ত। অন্যজন একই আবাসনের পরের তলায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। দু’জনকেই বিকেল ৫টা নাগাদ লিফট ব্যবহার করে ১৩ তলায় যেতে দেখা যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই তারা এক মোটরবাইকে পালিয়ে যায়। মোটরবাইকটি ছিল দ্বিতীয় অভিযুক্তের নিয়োগকর্তার।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে আরও তথ্য মিলছে। আপাতত দুই অভিযুক্তকে জেরা করে গোটা ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হবে।