
শেষ আপডেট: 7 December 2023 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সংসদে বিজেপি’র এমপি’দের সামনে ভাষণে দেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করা মাত্র বিজেপির সাংসদেরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনী দেন সাংসদেরা। বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা প্রধানমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিবাদন জানান। প্রবীণ মন্ত্রী ও সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির সাংসদেরা মোদী মোদী স্লোগান দিয়ে হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান বিধানসভার ভোটে বিজেপির সাফল্যের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিলেও তাঁর মুখে ছিল ভিন্ন কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জয় টিম ওয়ার্ক, টিম স্পিরিটের জয়। তিন রাজ্যের নেতা-কর্মীদের অক্লাম্ত পরিশ্রম আর বোঝাপড়া থেকে এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর মুখে সাম্প্রতিক কালে এমন কথা শোনা যায়নি। বরং বারে বারেই নিজের ঢাক নিজে পিটিয়েছেন বলে দলেও অনেকে মনে করেন। তিন রাজ্যের ভোটের প্রচারেও বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে ‘মোদীর গ্যারান্টি’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের সম্পর্কে বলেছেন, ‘একজন সব বিরোধীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।’
সেই নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার ভাষণে বারে বারে দলের কৃতিত্বের কথা বলেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মনে করছে, দলের কৃতিত্ব স্বীকার প্রধানমন্ত্রীর কৌশল হওয়া অসম্ভব নয়। তিনি জানেন, সামনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। দশ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে সঙ্গী করে লোকসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। এই সময় দলের সব নেতা-কর্মীর কৃতিত্ব স্বীকার করা সময়ের দাবি। বিশেষ করে ছত্তীসগড়ে রমন সিং, রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে, মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহানদের এবার গোড়ায় মোদী-শাহ-নাড্ডা জুটি গোড়ায় টিকিট দিতে চায়নি। একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী করা হয় তাঁদের। তিন নেতাই বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন এবং দলকে জিতিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, তিন রাজ্যের সাফল্যের পিছনে আঞ্চলিক নেতাদের বিরাট অবদান আছে। সেই সঙ্গে তাঁরা মানছেন মোদী-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতত্বের কৃতিত্ব তাঁরা গোটা দলকে মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিজেপি ও কংগ্রেসের নির্বাচনী সাফল্যের ফারাক তুলে ধরতে নতুন একটি দিক ভাষণে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিন রাজ্যের ভোটে মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রেখে রেকর্ড করেছে। সেখানে মাঝে এক বছর বাদে ২০০৩ থেকে ক্ষমতায় বিজেপি। এর আগে উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অসমে বিজেপি টানা দ্বিতীয়বার জিতেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় বার ক্ষমতা ধরে রাখাতে বিজেপির সাফল্যের হার ৫৭ শতাংশ। সেখানে কংগ্রেসের মাত্র ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দলগুলির এই সাফল্যের হার ৫৯ শতাংশ। মোদী বলেন, টানা তিনবার ক্ষমতা ধরে রাখাতে বিজেপির সাফল্যের হার ৫৯ শতাংশ। সেখানে কংগ্রেসের সাফল্য শূন্য।
প্রধানমন্ত্রী বিজেপি সাংসদদের লোকসভা নির্বাচনের জন্য কাজ শরু করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, মানুষের কাছে যান। বিজেপি সরকারের কর্মসূচির সাফল্য মানুষের কাছে তুলে ধরুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপির সরকারে সুশাসন এই দলের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।