
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।
শেষ আপডেট: 22 August 2024 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুক্তি বা তথ্য ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচারিত যে কোনও কিছুর উপর ভিত্তি করে কোনও মন্তব্য করার বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই তরুণীর শরীরে মেলা '১৫১ গ্রাম বীর্য' প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি।
পাশাপাশি, এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও একবার প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার অনুরোধ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
জানা গেছে, এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তদন্তের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। ওই বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি ছাড়া রয়েছেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্র। সিবিআই এদিন উল্লেখ করেছে, ক্রাইম সিনে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বদল করা হয়েছিল এবং নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর দেওয়া হয়েছিল-- এই দুইই সত্যি। সেই সঙ্গেই সিবিআই রিপোর্ট বলেছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় একজন ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণই তারা পেয়েছে, সে হল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়।
১. আমাদের সামনে প্রকৃত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আছে এবং আমরা জানি, যে ১৫১ গ্রাম বলতে কী বোঝায়। অনুগ্রহ করে আপনারা নিজেরা এর যুক্তি তৈরি করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন না।
২. চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে অনুরোধ করছি। আপনারা অনুগ্রহ করে আশ্বস্ত থাকুন, যে একবার ডাক্তাররা কাজে ফিরলে, আমরা তাদের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেব কর্তৃপক্ষকে। যদি ডাক্তাররা কাজ শুরু না করেন, তাহলে সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে চলবে?
৩. যে টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে, তার সদস্যরা সকলের কথা শুনবে। যাঁরা সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের কথাও আমরা ভাবছি। আমরা রেসিডেন্ট ডাক্তারদের উদ্দেশেও কিছু কথা বলব ও তাঁদের কথা শুনব। তাঁরা এই মামলায় ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
৪. তবে আমরা সমস্ত স্তরের প্রতিনিধিদের কমিটির অংশ করতে পারব না। তাহলে কমিটির কাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আমাদের তৈরি করা কমিটিতে যেমন সিনিয়র মহিলা ডাক্তার আছেন, তেমনই আরও অনেকে আছেন যাঁরা জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই কমিটি সবার কথা শুনবে। ইন্টার্ন, রেসিডেন্ট ডাক্তার, সিনিয়র রেসিডেন্ট, নার্স, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ-- সকলের কথা শুনবে।
৫. দয়া করে ডাক্তারদেরও বোঝান, যে আমরা নাগরিকরা জানি, তাঁরা ৩৬ ঘণ্টা ধরে টানা কাজ করেন। আমি নিজেও আমার পরিবারের একজনের জন্য সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম এবং রাতে কার্যত মেঝেতে শুয়ে রাত কাটিয়েছিলাম। ফলে আমরা পরিস্থিতি জানি।
৬. প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ডিউটি করার পরে কেউ যদি আপনাকে উত্ত্যক্তও করে, সেটা ঠেকানোর মতো শারীরিক বা মানসিক অবস্থাও থাকে না। আমি তো গুরুতর অপরাধের বিষয়ে যাচ্ছিই না।
৭. মিস্টার সিবাল, সবচেয়ে উদ্বেগের হল, ঘটনার জিডি এন্ট্রি হয়েছে ৯ অগস্ট সকাল ১০টা বেজে ১০ মিনিটে। আর ক্রাইম সিনকে সুরক্ষিত করা হয়েছে রাত সাড়ে ১১টার পর! এতক্ষণ ধরে কী চলছিল?
৮. ময়নাতদন্ত হয়েছে সন্ধে ৬টার সময়ে আর এফআইআর দায়ের হয়েছে রাত সাড়ে ১১টায়! আপনার রাজ্য যা করেছে, আমার ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমনটা আমি কখনও দেখিনি! এফআইআর দায়ের করার আগেই ময়না তদন্ত হয়ে গেল! এটা কি সত্য, যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ডায়েরি করা হয়েছিল? কে এই সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট, একজন অ-চিকিৎসক ব্যক্তি, তাঁর আচরণও খুব সন্দেহজনক।
৯. পরের দিন শুনানির সময়ে দয়া করে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসারকে নিয়ে আসবেন, যিনি সবটা বুঝিয়ে বলতে পারবেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাটি কখন নথিভুক্ত করা হয়েছিল, তার উত্তর আমরা এখনও পাইনি।
১০. রাত সাড়ে ১১টায় যদি থানায় এফআইআর হয়, তার আগে পরিবারের কাছে মৃতদেহ দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে জেনারেল ডায়েরিতে কীভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হল?