
শেষ আপডেট: 13 December 2023 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু বাংলাদেশ থেকেই এক কোটির বেশি মানুষ বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে বহু বছর যাবৎ অভিযোগ করে আসছে বিজেপি। কত পাকিস্তানি ভারতে এসে আর দেশে ফিরে যাননি সেই তথ্য তুলে ধরেই অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হয় গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে এলেই বাংলার সরকার ও শাসক দল ‘ঘুসপেটিও’ বা অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে থাকেন। অথচ সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলায় ভারত সরকার বলেছে, দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারীর সংখ্যা সরকারের জানা নেই। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের বাছাই করা মোটেই সহজ কাজ নয়।
নাগরিকত্ব আইনের কয়েকটি ধারার বিলোপ চেয়ে শীর্ষ আদালতে হওয়া মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাটি দায়ের করেছেন অসমের কিছু বাসিন্দা। ওই রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা নিয়ে বিগত কয়েক বছর যাবৎ রাজনীতি সরগরম। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি’র মাধ্যমে সেখানে বিদেশি বাছাই চলছে।
সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহের শুনানিতে ভারত সরকারকে প্রশ্ন করে অনুপ্রবেশ কি শুধুই অসমের সমস্যা। বাকি ভারতের অবস্থা কেমন, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে হলফনামা জমা দিক।
কেন্দ্র হলফনামায় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে বেআইনিভাবে প্রবেশকারীর সংখ্যা সরকারের জানা নেই। যেহেতু এই ধরনের বিদেশি নাগরিকেরা দেশে গোপনে প্রবেশ করে তাই অবৈধ অভিবাসীদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।’
হলফনামায় অসম নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়েছে, ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের মধ্যে অসমে আসা ১৭ হাজার ৮৬১জনকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ পূর্ববঙ্গের মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের কথা ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেন। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪২ হাজার ৩৮১জনকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হলফনামায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে সমতল ভূমি থেকে শুরু করে নদী, পাহাড় সবই আছে। কেন্দ্র বলেছে, সীমান্তের ৮১ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া গিয়েছে।
এই কাজে বিলম্বের জন্য জমি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে কেন্দ্র। হলফনামায় বলা হয়েছে, বাংলায় জমি পেতে অনেক সময় লাগছে। রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী জমি কিনে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।