
নির্মলা সীতারামন।
শেষ আপডেট: 23 July 2024 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোরারজি দেশাইয়ের রেকর্ড ভেঙে মঙ্গলবার তৃতীয় মোদী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেট কি জনমুখী হয়ে উঠতে পারবে? দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে করের বোঝার হাত থেকে কি কিছুটা রেহাই পাবেন আমজনতা? বেকারত্ব ঘোচাতে সরকারের ভাবনা কী ? নারী-শিশুকল্যাণ থেকে কৃষকদের জন্য বাজেটে কী বরাদ্দ থাকবে, কৌতূহল সব মহলে।
ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেখান থেকে সকাল ১০টায় তিনি পৌঁছবেন সংসদে। মন্ত্রিসভার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণের পর বেলা ১১টায় শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। সংসদ টিভি থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বাজেট পেশ। ভোটের কারণে গত বছর পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হয়নি। ফলে মোদী সরকারের এবারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটের দিকে নজর রাখছেন আমআদমি থেকে শিল্পপতি সকলেই।
চব্বিশের লোকসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। এবারের সরকার অনেকাংশে শরিক নির্ভর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সার থেকে কৃষি সরঞ্জাম লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে কৃষকের রোজগার কমেছে। এবারের ভোটে যার বড় প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। গ্রামাঞ্চলে ভোট কমেছে বিজেপি-সহ এনডিএ শরিকদের। সমস্যা সমাধানে বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ ঘোষণার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বাজেট বাস্তবমুখী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলের। কারণ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও দিল্লির বিধানসভায় ভোট হবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে। ভোটকে ঘিরে বাজেটে বিশেষ কিছু ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয় যাচ্ছে না।
দেশের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম রেল। অথচ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) বলছে, গত দশ বছরে স্রেফ রেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারিয়েছেন আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ! এদিকে একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলেও চাইলেও সাধারণ মানুষের পক্ষে রেলের মতো গণপরিবহণ এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। এমতাবস্থায় যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে রেলের ভাবনা কি,তা নিয়েও বাড়তি কৌতূহল রয়েছে।
আয়করের ছাড়ের ঊর্ধসীমা এবারে বাড়ে কিনা, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। অন্যদিকে ধনী দরিদ্রর বৈষম্য দূর করতে কোটিপতিদের উপর সরকার সম্পদ কর বসায় কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে সব মহলের। আমআদমির কথায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের ক্ষেত্রে আয়করে ছাড় দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, এতে হয়তো সরকারের আয় হচ্ছে কিন্তু গরিব মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়।
সম্প্রতি আম্বানির ছেলের রাজকীয় বিয়ে নিযে চর্চা শুরু হয়েছে জনমানসে। ওই প্রসঙ্গ টেনে সাধারণ মানুষের অনেকের বক্তব্য, মধ্যবিত্তর করে ছাড় দিয়ে সেই টাকা কোটিপতিদের কাছ থেকে সম্পদ কর বাবদ নেওয়া হোক। তাতে সরকারেরও রাজস্বে ঘাটতি হবে না, আবার গরিব মানুষও কিছুটা রেহাই পাবে। বাজেট ঘিরে হাজারও প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। তার কতখানি নির্মলার বাজেটে উঠে এল, জানা যাবে আর কিছু পরেই।