ভোট কেন্দ্রে বোরখা পরা মহিলাদের পরীক্ষা পুলিশের
শেষ আপডেট: 20 November 2024 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশ। পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে হাতাহাতি বাদ গেল না কিছুই। এমনকি উত্তেজনা থামাতে না পারায় সাসপেন্ডও করে দেওয়া হল দুই পুলিশ অফিসারকে। মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি বুধবার যোগীরাজ্যের ৯টি বিধানসভা আসনে চলছে ভোটাভুটি। বুধবার ভুয়ো ভোটারদের বোরখা পরিয়ে বুথে ঢোকানর অভিযোগকে কেন্দ্র করে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি।
ঠিক কী নিয়ে ঝামেলা?
এদিন ভোট শুরু হতেই নির্বাচন কমিশনের কাছে বিজেপি নালিশ জানায়, মুজফফপুর এলাকার একাধিক বুথে ভুয়ো পরিচয় পত্র দেখিয়ে অনেকে বোরখার আড়ালে ঢুকে পড়ছে। সমাজবাদী পার্টির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে গেরুয়া শিবিরের দাবি রাজ্যের বাইরে থেকে ভুয়ো ভোটার আনা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন দরগা ও মসজিদে তাদের রাখা হয়েছে। বেলা বাড়তেই তারা একাধিক প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়ে ছাপ্পা ভোট দেয় বলে অভিযোগ।
গেরুয়া শিবিরের দাবি, শুধু মহিলারাই নন, পুরুষদেরও বোরখার আড়ালে ভোটকেন্দ্রে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বেলা গড়াতেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মীরাপুরের কাছে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে গেরুয়া ও অখিলেশ যাদব শিবির। দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির পাশাপাশি একে অপরের দিকে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগও ওঠে। শেষমেশ নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি লিখে বিজেপির অভিযোগ, এমন কাণ্ড প্রথম নয়। আগেও একাধিকবার বোরখা পরা মহিলাদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আসলে, এদিন কিছু পুরুষ বোরখা পরে ভোট দিতে গিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচনী আধিকারিকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁদের বাধা দেন।
বিজেপির অভিযোগ, যদি বোরখা পরা মহিলাদের পরিচয় যাচাই না করা হয়, তাহলে জাল ভোট কিছুতেই আটকানো যাবে না। শুধুমাত্র সঠিক চেকিং এবং স্বচ্ছ ভোট যাতে হয় সেই আর্জি জানানো হয়।
অন্যদিকে বিরোধী সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, পুলিশ ভোটার কার্ড চেক করছে। দলের প্রধান অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের পরিচয় পত্র দেখার ভিডিও আপলোড করেছেন এবং পাল্টা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। পাশাপাশি মহিলাদের বোরখা সরিয়ে তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন অখিলেশ।
সমাজবাদী সুপ্রিমোর ভিডিও ভাইরাল হতেই দুই পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার উত্তরপ্রদেশের কাটেহারি, কারহাল, মীরাপুর, গাজিয়াবাদ, মাঝাওয়া, সিসামাউ, ফুলপুর, খের ও কুন্দারকি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ৯০ হাজার ৫৪০ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৭৭৫।