Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

মোদীতে অনাস্থা বিজেপির? গ্যাসের সিলিন্ডার ৫০০ টাকায়!

তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত করছে, দুটি রাজ্যেই ভরাডুবি হতে পারে বিজেপির। প্রকৃত ফলাফল অবশ্য জানা যাবে ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার।

মোদীতে অনাস্থা বিজেপির? গ্যাসের সিলিন্ডার ৫০০ টাকায়!

নরেন্দ্র মোদী

শেষ আপডেট: 7 October 2024 08:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানা ও জম্মু কাশ্মীরে সদ্য বিধানসভা ভোট হয়েছে। তার পর তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত করছে, দুটি রাজ্যেই ভরাডুবি হতে পারে বিজেপির। প্রকৃত ফলাফল অবশ্য জানা যাবে ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার। কিন্তু এরই মধ্যে শনিবার ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে পদ্ম পার্টি। তাতে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে মাসে একটি করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ৫০০ টাকা মূল্যে দেবে। সেই সঙ্গে বছরে দুটি সিলিন্ডার দেবে ফ্রি। 

অনেকে মনে করছেন, বিজেপির এই ঘোষণা প্রকারান্তরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপর অনাস্থারই ইঙ্গিত। বিজেপিরই আস্থা নেই মোদী সরকারের উপর! 

কেন এ কথা মনে করছেন তাঁরা? তাঁদের মতে, গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম রাঁচিতে ৮৬০টাকা। বিজেপির ইস্তাহারই প্রমাণ করছে এই দাম মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য বোঝা। সেই বোঝা লাঘব করতে রাজ্য বিজেপিকে প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে ৫০০ টাকা মূল্যে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দেবে। সেই সঙ্গে ফ্রিতে বছরে দুটো সিলিন্ডার। অর্থাৎ বিজেপিই বুঝিয়ে দিচ্ছে মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক মানুষের জন্য গ্যাসের সিলিন্ডারের সহনশীল দাম ৫০০ টাকা। 

গ্যাসের দাম নিয়ে সাধারণ মধ্যবিত্তের যে উষ্মা রয়েছে তা বুঝেছিলেন পোড় খাওয়া রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই লোকসভা ভোটের সময়ে মোদীকে কটাক্ষ করে মমতা স্লোগান তুলেছিলেন, “বাহবা নন্দলাল/ ১১৪৯ টাকার গ্যাসে ফুটছে বিনা পয়সার চাল।”

গ্যাসের দামের পাশাপাশি সোমবার বিজেপি ঘোষণা করেছে, ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতায় এলে তাঁরা মহিলাদের প্রতি মাসে ২১০০ টাকা করে দেবে। যে প্রকল্পের নাম হবে গোগো-দিদি যোজনা। গোগো মানে মা। ঘটনা হল, এ ধরনের প্রকল্পকে মোদী-শাহ জুটি বরাবরই খয়রাতি হিসাবে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভা থেকেই বলেছিলেন, এ হল রেবড়ি প্রকল্প। ভোটারদের লুব্ধ করার চেষ্টা। এই অপচেষ্টা বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ করা উচিত। অথচ দেখা যাচ্ছে, তাঁর দল বিজেপিই আর সেই শর্ত আঁকড়ে থাকতে পারছে না। 

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর কথায়, বিজেপিও বুঝে গেছে, নরেন্দ্র মোদীর মুখ দেখিয়ে আর রাজ্যের ভোটে জেতা যাবে না। তাই মোদী যাকে রেবড়ি বলেছিলেন, ভোটে জিততে সেই রেবড়িতে অবগাহণ করতে হচ্ছে বিজেপিকে। অধীরের কথায়, “অবশ্যই এ হল মোদীর প্রতি বিজেপির অনাস্থা। ম্যাজিক শেষ, এখন ট্র্যাজিক চরিত্র মোদীমশাই।”

কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ সালে প্রান্তিক পরিবারের জন্য উজ্জ্বলা যোজনা শুরু করেছিল মোদী সরকার। সেই প্রকল্প মোতাবেক গ্যাসের কানেকশন ফ্রিতে দেওয়া হলেও বাজার মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে হত। পরে ২০২২ সালে সরকার সাবসিডি স্কিম চালু করে। তাতে বলা হয়, উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় গরিব পরিবারগুলিকে গ্যাস সিলিন্ডার পিছু ২০০ টাকা ভরতুকি দেওয়া হবে। পরে তা বাড়িয়ে লোকসভা ভোটের আগে ৩০০টাকা করে মোদী সরকার।

তবে মনে রাখতে হবে সেই সুবিধা শুধু দারিদ্র সীমার নিচে থাকা মানুষই পায়। তবে ঠিক ভোটের মুখে সামগ্রিক ভাবে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১০০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। যা দেখে সবাই বুঝতে পেরেছিলেন, গ্যাসের উত্তাপে হাত পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন নরেন্দ্র দামোদর মোদী। 

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, গ্রাম ও গরিবকে বুঝতেই পারেনি মোদী সরকার। সেই কারণে উজ্জ্বলা যোজনা ডাহা ফেল করে। তারা ধরে নিয়েছিল, ফ্রিতে গ্যাস কানেকশন দিলেই বুঝি সবাই পটাপট সিলিন্ডার কেনা শুরু করবে। কিন্তু প্রতি মাসে সিলিন্ডারের টাকা জোগাড় করাই যে গ্রামের মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ তা ধরতেই পারেননি দিল্লির বাবুরা। তুলনায় প্রথম ও দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে কৃত্রিম ভাবে হলেও গ্যাসের দাম কম রাখা হয়েছিল। যা তুলনামূলক ভাবে খুশি রেখেছিল মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিবকে। এখন ঘুরে ফিরে সেই পথেই হাঁটতে চাইছে বিজেপি। দশ বছর পর ব্যাক টু স্কোয়ার ওয়ান।


```