
একের পর এক সেতু ভাঙছে বিহারে।
শেষ আপডেট: 5 July 2024 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে যেন সেতু-আতঙ্ক চলছে। ফের ভেঙে পড়ল সেতু। বৃহস্পতিবার সারন জেলায় গণ্ডকী নদীর উপর তৈরি আরও একটি সেতু ভেঙে পড়েছে বলে খবর। ফলে শুধু সারনেই ২৪ ঘণ্টায় ভেঙেছে তিনটি সেতু! সব মিলিয়ে বিহারে এই নিয়ে গত ১৭ দিনে পরপর ১২টি সেতু ভাঙল। এর জেরে ১৫ জন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করেছে।
তবে কী ভাবে এতগুলি সেতু ভাঙল, সারনের সেতুগুলিই বা কেন এমন পরপর ভাঙল, তার কারণ স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে প্রশাসনের তরফে অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করা হয়েছে এই সেতু বিপর্যয়ের জন্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বৃষ্টি তো প্রতি বছরই হয়, বন্যাও হয়। ব্রিজগুলি জলের তোড় সহ্য করে, ডুবেও যায়। এরকম ভাবে পরপর ভাঙার কারণ কী!
উত্তর না মিললেও, এক ডজন সেতু ভাঙার পরে নড়ে বসেছে প্রশাসন। সেচ দফতরের ১১ জন এবং গ্রামীণ সড়ক দফতরের চার জন-সহ মোট ১৫ জন সরকারি ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের মতো উচ্চপদস্থ কর্তারাও রয়েছেন। দু'টি নির্মাণ সংস্থাকে শোকজও করা হয়েছে। ব্ল্যাকলিস্টেড করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কারও কারও পেমেন্টও আটকে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেনরাম মাঝির বক্তব্যেও বিতর্ক ঘনিয়েছে। তিনি বলেছেন, "এটা বর্ষার সময়। অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে, যা সেতু ভেঙে পড়ার কারণ।" তিনি আরও বলেছেন, " রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি গতকাল একটি মিটিং করেছেন। কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, যে কোনও ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
#WATCH | Patna, Bihar: On recent incidents of bridge collapses in Bihar, Union Minister Jitan Ram Manjhi says, "It is monsoon time. There has been an abnormal amount of rain, which is the reason behind the collapse of bridges. But, the CM of the state is very sensitive towards… pic.twitter.com/vuS5x2ENqe
— ANI (@ANI) July 5, 2024
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সারনে নদীর উপর তৈরি একটি সেতু একেবারে মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে। সেতুর অনেকটা অংশ জলে পড়ে গিয়েছে। এই সেতুটির মাধ্যমে সারন জেলা থেকে সিওয়ান জেলায় যাওয়া যায়। ফলে এটি ভেঙে পড়ায় গ্রামবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন। সেতুটি ১৫ বছরের পুরনো।
বিহারে প্রথম সেতু ভাঙার খবর আসে গত ১৮ জুন। আরারিয়া জেলায় সেতু ভেঙে পড়ে সবার আগে। তার পর ২২ তারিখ সিওয়ানেও একই ভাবে নদীর উপর ভেঙে পড়ে একটি সেতু। এর পর পূর্ব চম্পারন, কিষানগঞ্জ, মধুবনী, মুজফ্ফরপুরে সেতু ভেঙেছে। বুধবার সিওয়ানে চারটি সেতু এবং সারনে দু’টি সেতু ভেঙে পড়ে। বৃহস্পতিবার সারনের আরও একটি সেতু ভাঙার পরে মোট সেতু ভাঙার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের এবং সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কী ধরনের জিনিস দিয়ে এইসব সেতু তৈরি করা হয়েছে? নিম্নমানের জিনিস ব্যবহারের জন্যই কি পরপর এমন ঘটনা? সেতুগুলির রক্ষণাবেক্ষণ কি আদৌ হতো?
আরজেডি নেতা ও রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা তেজস্বী যাদবের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এত বড় ঘটনা নিয়ে চুপ রয়েছেন। সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারের দাবি কোথায় গেল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তেজস্বী। বলেছেন, এই ঘটনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে সরকারের সব দফতরে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে।