মঙ্গলবার দুপুরে সিএমএস (CMS) সংস্থার ভ্যান থেকে মোট ৭.১১ কোটি টাকা লুট হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, গোটা ঘটনাই ছিল সুচিন্তিত ‘ইনসাইডার–অ্যাসিস্টেড’ হাইস্ট।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 22 November 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে বেঙ্গালুরুর (Bengaluru Cash Van) বহুলচর্চিত এটিএম ক্যাশ ভ্যান ডাকাতির (Van Heist) মূল চক্র ধরে ফেলল পুলিশ (Police)। উদ্ধার হয়েছে ৫.৭৬ কোটি টাকা। মঙ্গলবার দুপুরে সিএমএস (CMS) সংস্থার ভ্যান থেকে মোট ৭.১১ কোটি টাকা লুট হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, গোটা ঘটনাই ছিল সুচিন্তিত ‘ইনসাইডার–অ্যাসিস্টেড’ হাইস্ট।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটা নাগাদ আশোকা পিলার-জয়নগর ডেয়ারি সার্কেলের কাছে সিএমএস–এর ক্যাশ ভ্যানটিকে আটকে দেয় একটি দুষ্কৃতী-চক্র। নিজেদের ‘আরবিআই–অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভ্যানের কর্মীদের বন্দুক দেখিয়ে ক্যাশ বক্স ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর দুপুর ১টা ১৬ নাগাদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ভ্যানটি। ঘটনার তদন্ত শুরু করে সিদ্ধাপুরা থানার পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসে চক্রের মদতে ছিল সংস্থারই বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী, এমনকি এক পুলিশ কনস্টেবলও! তাঁরা হলেন-
তিনজনকে জেরা করে আরও নিশ্চিত হয় পুলিশ যে এই লুটে বহুমাত্রিক ‘ইনসাইড ইনভলভমেন্ট’ ছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় তিন মাস ধরে রুট পর্যবেক্ষণ করে, সিসিটিভি ব্লাইন্ড স্পট চিহ্নিত করে, একাধিক গাড়ি ব্যবহার করে এবং বারবার নম্বরপ্লেট বদলে ফেলে অপারেশন চালানো হয়। মোবাইল ফোন এড়িয়ে নানা ভাষায় যোগাযোগ করে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। পুলিশের অনুমান, মোট ৬-৮ জন এই চক্রে যুক্ত, লজিস্টিকস হ্যান্ডলার, স্পটার, মানি মুভার।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর মামলা। ধৃতদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এখনই বলা সম্ভব নয়। CMS কর্তৃপক্ষকে ডেকে নিরাপত্তার গলদ নিয়ে আলোচনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া ট্রাঙ্কগুলিতে নগদ রাখা হয়েছিল। প্রাক্তন কর্মী চাকরি ছাড়ার পরও সংস্থার লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।”
কর্নাটক, তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা ও গোয়া— মোট ছয় রাজ্যে ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে জেরা করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে প্রথম বড় সূত্র হাতে আসে পুলিশের।
পুলিশের দাবি, CMS-এর ক্যাশ ভ্যান একাধিক আরবিআই নিরাপত্তা-নির্দেশ লঙ্ঘন করেছিল। উদ্ধার হয়েছে হাইস্টে ব্যবহৃত একটি গাড়িও। এই মামলার দ্রুত সমাধানে বিশেষ ভূমিকার জন্য তদন্তকারী দলকে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন কমিশনার।