
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 February 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দি থাকা, ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত এক যুবককে জামিন (Bail to accused) দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay Highcourt)। শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন অর্থাৎ পকসো (POCSO) আইনের অধীনে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিতও হয়েছিল নিম্ন আদালতে। এর পরে হাইকোর্টে যান তিনি। হাইকোর্টের বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ১৪ বছর বয়সি ওই কিশোরী স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের সঙ্গে চার দিন ছিল এবং সে তার কাজের ফলাফল বোঝার মতো যথেষ্ট বড় হয়েছিল।
এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মিলিন্দ যাদবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, ‘পকসো আইনের অধীনে নির্যাতিতা একজন নাবালিকা, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে মামলার প্রেক্ষাপট দেখে বোঝা যায়, এই কাজের ফলাফল সম্পূর্ণ বোঝার মতো জ্ঞান ও ক্ষমতা তার ছিল এবং সে স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের সঙ্গে চার দিন কাটিয়েছিল।'
ঠিক কী হয়েছিল?
২০১৯ সালে মুম্বইয়ের ডি এন নগর থানায় এই মামলা নথিভুক্ত হয়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে কিশোরীর বাবা তাঁর মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রিপোর্ট করেন। পরে মুম্বইয়ের জুহু চৌপাটির কাছে অভিযুক্ত ও তার এক সহকর্মীর সঙ্গে কিশোরীকে পাওয়া যায়। তার পরেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি আদালতে জানান, তিনি ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রায় দু'বছর ধরে মেলামেশা করছেন। তাঁর পরিবারেও কেউ নেই বলে জানা যায়। ধরা পড়ার পরে তিনি বারবার নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। কারণ নিম্ন আদালতের মতে, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তাঁর সম্মতির কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
পরে এই কেস হাইকোর্টে উঠলে, আদালত খতিয়ে দেখে, পুলিশের মূল অভিযোগপত্র এবং পরবর্তীকালে কিশোরীর দেওয়া বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। এমনকি, তার মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় দেওয়া বয়ানেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়া, সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত জানতে পারে, অভিযুক্ত যে হোটেলে কাজ করতেন, সেই হোটেলের মালিক জানিয়েছেন— কিশোরীর বাবা তাঁদের সম্পর্কে জানতেন।
এর পরেও পুলিশ যুক্তি দেখায়, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তাঁর সম্মতি বা পূর্বপরিচয়-- এসব আইনি বৈধতা পায় না। তবে আদালত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে জানায়, অভিযুক্তের কোনও পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি ইতিমধ্যেই পাঁচ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এই খাতে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া যায়। তবে জামিন দেওয়ার সময় বিচার্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে:
এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই আদালত অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছে।