
এলাহাবাদ হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 2 July 2024 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মান্তরকরণ বন্ধ না করলে একদিন সংখ্যাগুরু হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। ক্রমবর্ধমান ধর্মান্তরণের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছে, এই ধারা চলতে থাকলে দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় একদিন সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে যাবে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়াল কৈলাস নামে এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করেন। কৈলাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রামের একদল হিন্দুকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করেছেন। এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ হল, এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে দেওয়া হলে একদিন সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। এই ধরনের ধর্মান্তরকরণ এই মুহূর্তে বন্ধ করা উচিত।
ধর্মীয় সমাবেশে ধর্মান্তরিত করার কাজ অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। স্পষ্ট ভাষায় আদালত জানিয়েছে, সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারা মোতাবেক ধর্মাচরণের অধিকার লঙ্ঘন করে এই ধরনের কাজ। উল্লেখ্য, সংবিধানে স্বাধীন ধর্মাচরণের অধিকারে বলা আছে, কোনও ব্যক্তি যে কোনও ধর্ম, ঈশ্বরের ভজনা, পূজন, সাধনা করতে পারেন। এমনকী শর্তসাপেক্ষভাবে নিজ ধর্মমতের প্রচারও করতে পারেন।
হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছে, ধর্মপ্রচারের অর্থ হচ্ছে, নিজ ধর্মকে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু, অন্য কাউকে নিজ ধর্মে ধর্মান্তরিত করা নয়। আদালতের মতে, মানুষের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার কাজ চলছে।
হামিরপুর জেলার মৌদহ গ্রামের কৈলাসের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগকে গুরুতর অভিযোগ বলে বর্ণনা করেন বিচারপতি আগরওয়াল। উল্লেখ্য, রামকলি প্রজাপতি নামে এক ব্যক্তি কৈলাসের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। কৈলাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি ধর্মসভায় গ্রামের সকলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং সেখানে তাঁদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা হয়। এফআইআর অনুসারে, প্রজাপতির মানসিক অসুস্থ ভাইকেও টাকাপয়সা দিয়ে ধর্মান্তরিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।