
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2025 23:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। টাকার অভাবে শববাহী গাড়ি মেলেনি, তাই রাস্তার ধারে মায়ের দেহ আগলে বসে থাকতে হল মাত্র ১১ বছরের এক কন্যাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবশেষে এক ইঞ্জিনভ্যানে করে মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয় সে।
৪৫ বছরের জাহেরা বিবি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ তেহট্টের তরণীপুর থেকে কৃষ্ণনগরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসার পথে বাসের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কৃষ্ণনগরে ঢোকার আগেই সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলে বাসের কন্ডাক্টর তাঁকে শহরের পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। অসহায় মেয়েটি তখন মাকে বাঁচানোর জন্য ছুটোছুটি করলেও কেউ সাহায্যের হাত বাড়াননি।
ঘণ্টাখানেক পর আশাকর্মীরা এসে মৃত বলে ঘোষণা করেন জাহেরাকে, কিন্তু তাঁর দেহ হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়ারও উদ্যোগ নেননি কেউ। টাকা না থাকায় মেয়েটি অ্যাম্বুল্যান্সও জোগাড় করতে পারেনি। এক স্থানীয় ব্যক্তি ২ হাজার টাকা দাবি করেন, যা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। একপর্যায়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সহায়তায় একটি ইঞ্জিনভ্যান জোগাড় হয়, যাতে করেই বৃষ্টির মধ্যে মায়ের মরদেহ নিয়ে ৪০ কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে ফেরে ছোট্ট মেয়েটি।
এই ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের মতো সরকারি উদ্যোগ থাকলেও, কেন এক অসহায় শিশুকে এভাবে দারুণ কষ্টের মধ্যে পড়তে হল— সেই প্রশ্নই তুলছে বিরোধীরা।