হারের পিছনে অনেকে দায়ী, নিজে দায় না নিয়ে অন্যকে দায়ী করা যায় না, ইস্তফা দিয়ে বললেন রাহুল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার দু'দিন পরই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সে দিনই বলেছিলেন, নতুন সভাপতি খুঁজে নিন। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাহুল। টুইট করে
শেষ আপডেট: 2 July 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার দু'দিন পরই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সে দিনই বলেছিলেন, নতুন সভাপতি খুঁজে নিন। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাহুল। টুইট করে তা প্রকাশ করে দিলেন। সেই সঙ্গে টুইটার হ্যান্ডেল থেকে কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে তাঁর পরিচয়ও মুছে দিলেন।
ইস্তফা পত্রে কী লিখেছেন রাহুল, এক নজরে দেখুন-
উনিশের নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য আমিই দায়ী। দলের ভবিষ্যতের জন্যই দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সেই কারণেই ইস্তফা দিয়েছি।
দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে উনিশের ভোট-ব্যর্থতার জন্য অসংখ্য লোককে দায়ী করা দরকার। নিজে দায় স্বীকার না করে অন্যকে দায়ী করা যায় না।
দলের অনেক নেতা আমাকে বলেছিলেন পরবর্তী সভাপতি-র নাম প্রস্তাব করতে। সেটা ঠিক হবে না। আমি বিশ্বাস করি এ ব্যাপারে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। দলের নেতারা এমন একজনকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করবেন, যিনি সাহস, ভালবাসা আর নিষ্ঠার সঙ্গে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেবেন।
আমার রাজনৈতিক লড়াই কখনও সহজ ছিল না। বিজেপি-র বিরুদ্ধে আমার কোনও রাগ বা ঘৃণা নেই। কিন্তু ওরা যে ভাবে ভারত-কে দেখে, তাতে আমার দেহের প্রতিটি জীবন্ত কোষের আপত্তি রয়েছে। ওরা যেখানে ফারাক খোঁজে, আমি খুঁজি সামঞ্জস্য। ওঁরা যেখানে দেখে ঘৃণা, আমি দেখি ভালবাসা।
আমি প্রধানমন্ত্রী ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই লড়াই থেকে সরে আসছি না। কারণ, দেশ ও সংবিধানের উপর ক্রমাগত যে আঘাত হানা চলছে তাতে সৌভ্রাতৃত্বের বাতাবরণের জন্য সংকট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের এক জন অনুগত সৈনিক হিসাবে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে লড়াই করব।
দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে তবেই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা না থাকলে ভোট সুষ্ঠু হতে পারে না।
আর্থিক রসদের উপর কোনও একটি রাজনৈতিক দলের (পড়ুন বিজেপি-র) একচেটিয়া অধিকার থাকলেও ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।
উনিশের ভোটে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে লড়িনি। বরং আমরা লড়েছি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান (পড়ুন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান) বিরোধীদের খর্ব করার চেষ্টা করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতাই অস্তিত্ব হারিয়েছে।
আরএসএস তাদের ঘোষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। দেশের সমস্ত রকম প্রতিষ্ঠান তারা দখল করে নিয়েছে। সব থেকে বড় বিপদ হল ভোট এখন আর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারক নয়, কেবল একটা প্রথায় পরিণত হয়েছে।
আরএসএস এ ভাবে ক্ষমতা দখল করে নেওয়ার ফলে দেশ জুড়ে অভাবনীয় হিংসার ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে দুর্ভোগে পড়তে পারেন কৃষক, কর্মহীন নতুন প্রজন্ম, মহিলা, আদিবাসী, দলিত এবং সংখ্যালঘুরা।
প্রধানমন্ত্রী ভোটে জিতেছেন ঠিকই। কোনও অর্থ এবং প্রচারের ঘনঘটা সত্যিকে লুকিয়ে রাখতে পারবে না।
ভারতে একটা প্রবণতা রয়েছে,-যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁরা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান। কেউ আত্মত্যাগ করেন না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ত্যাগ না করতে পারলে আমরা মতাদর্শগত লড়াই জিততে পারব না। কংগ্রেসই আমার শরীরের রক্তস্রোত। আজীবন তাই থাকবে।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/rahul-gandhi-said-he-has-resigned-will-not-remain-president-anyway/