দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময়ে সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন ব়্যাঙ্কে ছিলেন তিনি। পাটিয়ালার মহারাজ। তাঁর বাজখাই মেজাজ এখনও তেমনই। সেই তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ বৃহস্পতিবার লাদাখ সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, উগ্র আক্রমণ শানালেন। তিনি বলেন, “ওরা আমাদের একজনকে মারলে চিনের পাঁচ জনকে মারতে হবে।”
তিনি এ প্রশ্নও অবশ্য তুলেছেন যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের কেন অস্ত্র ছাড়া পাঠানো হয়েছে। “এ ব্যাপারে কাউকে না কাউকে দায় নিতেই হবে। কেন অস্ত্র ছিল না?”
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এটা প্রস্তর যুগ নয় যে কোনও অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধে যাবে। তা হলে বরং আরএসএসের স্বয়ংসেবকদের লাঠি নিয়ে সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হোক”।
সীমান্তে নিরাপত্তার প্রশ্নে বরাবরই আগ্রাসী মনোভাব অমরেন্দ্রর। যদিও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে তাঁর কথার বা অবস্থানের মাঝে মধ্যেই ফারাক হয়। কিন্তু এও ঠিক, ক্যাপ্টেনকে কেউ চটাতে সাহস করেন না।
এদিন তিনি বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি জানি না এসব নির্দেশ কারা দেয়। টহলদারীর সময় বাহিনীর কাছে সব সময়ে অস্ত্র থাকবে। চিনারা তৈরি হয়ে এসেছিল। আমাদের ছেলেরা প্রস্তুত ছিল না”। অমরেন্দ্র জানান, “১৯৬৩ সালে সেনাবাহিনীতে আমার প্রথম পোস্টিং ছিল চিন সীমান্তে। কিন্তু আমরা কখনওই অস্ত্র ছাড়া যাইনি”।
যদিও সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, ৮৮ সালের পর থেকে সীমান্তে এমন ব্যবস্থাই রয়েছে। সীমান্ত নিয়ে বিবাদ থাকলেও বৈরীতার পরিবেশ যাতে না থাকে সে জন্য দুই দেশই কমবেশি এমন অবস্থানই নিয়ে চলছিল।
এখানেই থামেননি পাটিয়ালার মহারাজা। তিনি বলেন, চিনারা সালামি নীতি নিয়েছে। ভারতের ভূখণ্ডকে স্লাইস করে করে দখল করছে। সুতরাং এর মোক্ষম জবাবও দিতে হবে। পুলওয়ামায় বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানের বালাকোটে যেমন বিমান হানা হয়েছিল, এবার তেমনই করতে হবে। তাঁর কথায়, “আমরা বিহারী, পাঞ্জাবিরা কী করতে বসে রয়েছি। ওই ঘটনার পরই পাল্টা হামলা করা উচিত ছিল। চিনারা বুঝে যেত কত ধানে কত চাল।”
প্রসঙ্গত, লাদাখ সংঘাতে অফিসার ও জওয়ান সহ ভারতীয় বাহিনীর ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, ভারতীয় জওয়ানদের বলিদান ব্যর্থ হবে না। ভারত এর মোক্ষম জবাব দেবে।