
সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির বাগদার স্থানীয় নেতৃত্ব। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 15 June 2024 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১০ জুলাই রাজ্যের চার কেন্দ্রে হবে উপ নির্বাচন। কেন্দ্রগুলি হল- রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা ও মানিকতলা। ইতিমধ্যে তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস জোট তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও বিজেপির তরফে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। তবে বাগদার রাজনৈতিক বাতাসে ঘুরছে একটি নাম, সোমা ঠাকুর। সোমা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী।
সোমাকে বাগদা থেকে প্রার্থী করা হতে পারে জানতে পেরে শনিবার তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজেদের ক্ষোভের কথা সামনে আনলেন বাগদার বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা, বাগদায় এবার বহিরাগত প্রার্থী দিলে তার ফল ভুগতে হবে দলকে। কর্মী হিসেবে তাঁরা বহিরাগত প্রার্থীর দায়িত্ব নেবেন না।
বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা সুপ্রিয়া শিকদারের প্রশ্ন, "বাগদায় কি যোগ্য নেতা নেই? কেন বারে বারে বাইরের প্রার্থী দেওয়া হবে?" জবাবও দিয়েছেন, "একাধিক আসনে ভুল প্রার্থী দেওয়ার খেসারত তো লোকসভা ভোটে দিতে হল। তাতেও কি দলের শিক্ষা হল না?"
বিজেপি যুবমোর্চার নেতা, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সঞ্জয় মল্লিক বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রীকে বাগদায় প্রার্থী করা হবে। এর আগে নিজের ভাইকে বিধায়ক করেছেন। এবার বউ? এটা আমরা মেনে নেব না।"'
হুঁশিয়ারির সুরে মনে করিয়েছেন, "আগের বার বিশ্বজিৎ দাসকে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবু আমরা দিনরাত খেটে জিতিয়েছিলাম। মনে রাখবেন, বাগদার মাটিতে কিন্তু সংগঠনটা আমরা করি, মোদী বা শান্তনু ঠাকুর নয়। পার্টি করতে গিয়ে জেলও খেটেছি, ফলে পার্টির ভাল মন্দ নিয়ে বলার অধিকার আমাদেরও আছে।"
বিজেপির বাগদা ৩ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক গোবিন্দ মজুদার বলেন, "আমাদের নেতা মোদী-শাহ বলেছেন-এক ব্যক্তি এক পদ। বাগদায় সেই নিয়ম মানা হবে না কেন?"
প্রসঙ্গত, গতবারে বাগদা থেকে জয়ী হওয়ার পর একুশের অগস্টে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। এবারের লোকসভা ভোটে বনগাঁয় বিশ্বজিৎকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। দল বদলের কারণে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে লোকসভায় লড়েছিলেন। তারই জেরে এই কেন্দ্রে উপ নির্বাচন।
গেরুয়া শিবিরের ঘোলাজল আরও ঘুলিয়ে দিতে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা অগরচন্দ্র হালদারের টিপ্পনি, "বাগদায় বিজেপির ১৭-১৮ জন দাবিদার। টিকিট পাওয়ার জন্য ওদের না হাতাহাতি বেঁধে যায়!"