কোভিড মোকাবিলায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার থামাতে বলল হু, সহমত নন এইমসের ডাক্তাররা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার আপাতত বন্ধ করতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু।
কোভিডের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে ল্যানসেট জার্নালে গত সপ্তাহে একটি গবেষণাপত্র প্রক
শেষ আপডেট: 26 May 2020 01:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার আপাতত বন্ধ করতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু।
কোভিডের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে ল্যানসেট জার্নালে গত সপ্তাহে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের এই ওষুধ দিলে তাঁদের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। সোমবার প্রেস কনফারেন্সে সে কথা ফের জানান হু
-চিফ টেড্রস আধানম।
ট্রেডস জানান, দুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন দেশে কোভিডের চিকিৎসার জন্য যে সলিডারিটি ট্রায়াল গ্রুপ তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ যাঁরা স্বেচ্ছায় বিভিন্ন ওষুধের ট্রায়ালে রাজি হয়েছেন, তাঁদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কারণ এ সংক্রান্ত এক্সিকিউটিভ গ্রুপ সমস্ত সেফটি ডেটা বিবেচনা করে দেখছে। অর্থাৎ যাঁদের এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের শরীরে ড্রাগের কী ধরনের প্রভাব পড়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি ওষুধগুলোর ট্রায়াল চলছে।
এ ব্যাপারে এইমসের ডাক্তাররা অবশ্য সহমত নন। কারণ তাঁদের মতে, প্রফিল্যাক্সিস হিসেবে হাই রিস্ক গ্রুপের মধ্যে হাইড্রক্সিক্লোরোইনের ব্যবহার কার্যকরী হতে পারে। তবে তাঁরা এও বলছেন, কোভিড রোগীদের মধ্যে এর গণ ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যাঁদের ঝুঁকি বেশি তাঁদের দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বাতের ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু কোভিডের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে হইচই বাধিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি সম্প্রতি ট্রাম্প এও বলেন যে, তিনি নিজে এই ওষুধ খাবেন।
শুধু ট্রাম্প নন, ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রীও গত সপ্তাহে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। এমনকি কোভিডের মৃদু উপসর্গ যাঁদের রয়েছে তাঁদের ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ক্লোরোকুইন দেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

ল্যানসেটে যে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তথা সাইড এফেক্ট রয়েছে। বিশেষ করে হার্ট এরিদমিয়া দেখা দিতে পারে। এবং হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের এই ওষুধ দিয়ে যে খুব উপকার পাওয়া গেছে তাও নয়। ল্যানসেটের গবেষণায় বিশ্ব জুড়ে কয়েকশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৬ হাজার রোগীর রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়েছে।
টেড্রস সোমবার বলেন, দুটি ওষুধকে সাধারণ ভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। অটোইমিউন ডিজিস বা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যও যা নিরাপদ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিফ সায়েন্টিস্ট সৌম্য স্বামীনাথন সোমবার ওই প্রেস কনফারেন্সে অবশ্য জানিয়েছেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ নিয়েই মূলত সমীক্ষা করা হয়েছে। ক্লোরোকুইনের প্রয়োগ নিয়ে কোনও সমীক্ষা করা হয়নি। তা ছাড়া হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ সাময়িক ভাবে বন্ধ করতে বলা হয়েছে মাত্র।
যদিও মার্কিন ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ আগেই সতর্ক করেছিল, কোনও কারণ ছাড়া নিয়মিত এই ওষুধ খেলে কারও কারও হৃদস্পন্দনে গুরুতর অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কোনও রোগী যখন অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মত অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে ম্যালেরিয়ার ওই ওষুধ খান, কিংবা যাদের আগে থেকেই হৃদযন্ত্র বা কিডনির জটিলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে বলে জানিয়েছিল এফডিএ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ক্লোরোকুইন ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে মানুষকে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছিল। নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোও জানিয়েছিলেন, বড় এক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে সুস্থ হওয়ার হারে তেমন কোনও হেরফের দেখা যায়নি।
সোমবার গেব্রেসিয়াস বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ কতটা নিরাপদ, তার পর্যালোচনা চলছে এখনও। এমন কোনও প্রামাণ্য ও গবেষণালব্ধ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি, যাতে করে করোনা সংক্রমণে বা সম্ভাব্য সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই ওষুধকে পুরোপুরি কার্যকর ও নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তাই তার আগে পর্যন্ত এই ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হু।
হু-এর জরুরি কর্মসূচির প্রধান ডক্টর মাইক রায়ান-ও এ বিষয়ে বলেন, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার স্থগিত রাখতে হবে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত জরুরি।