তিনমাস অপেক্ষার পর ওবিসির গেরো কাটিয়ে অবশেষে বেরোল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল। প্রকাশিত হয়েছে মেধা তালিকাও। তারপরেই জানা গেল জয়েন্টে দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্য ছেড়েছেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 21:37
তিনমাস অপেক্ষার পর ওবিসির গেরো কাটিয়ে অবশেষে বেরোল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল। প্রকাশিত হয়েছে মেধা তালিকাও। তারপরেই জানা গেল জয়েন্টে দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্য ছেড়েছেন। এমন নজরকাড়া ফল জেনে খুশি হওয়া ছাড়া আর কিছুই এসে যায় না তাঁদের। আর প্রথম হওয়া অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীও আইআইটি খড়্গপুরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছেন।

খড়্গপুর থেকেই অনিরুদ্ধ জানান, "জয়েন্টে প্রথম হয়েছি জেনে খুবই ভাল লাগছে। তবে আইআইটিতে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্ন সার্থকও হয়েছে। তাই আর জয়েন্টের রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করার কোনও মানে ছিল না। এখানে আমাদের ক্লাসও শুরু হয়ে গেছে।"
জয়েন্টে দ্বিতীয় সাম্যজ্যোতি এখন বম্বে আইআইটির ছাত্র। মা ডঃ সোমা বিশ্বাস ছেলের ফলে দারুন খুশি। তবে বললেন, "এই পরীক্ষাটা আসলে ছিল বাই-প্রোডাক্ট। বরাবরই ছেলের ইচ্ছে ছিল আইআইএসসি বেঙ্গালুরু বা বম্বে আইআইটিতে পড়তে যাওয়ার। সেভাবেই নিজেকে তৈরি করেছিল। অসম্ভব পরিশ্রম করেছে।" এই মুহূর্তে তাঁর আক্ষেপ ছেলে বম্বে আইআইটিতে পড়তে যাওয়ার আগেও যদি এই ফলাফল প্রকাশ পেতো তাহলে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সেলিব্রেট করতে পারতেন। ফলাফল প্রকাশের পর এখনও ভাল করে কথাই বলতে পারছেন না ফোনে। ছেলের সেকেন্ড হওয়ার খুশি ছাড়া এ রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স থেকে আর কিছুই পাওনা নেই তাঁর।
তবে জয়েন্টের চতুর্থ স্থানাধিকারী অরিত্র রায়ের মা মহুয়া রায়ের আক্ষেপ, “আমরা যাদবপুরে পড়াশোনা করেছি। ইচ্ছে ছিল ছেলেও বাড়ির কাছেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে। কিন্তু সে ইচ্ছে পূর্ণ হল না। জয়েন্টের ফলের জন্য অনেক অপেক্ষার পর বম্বে আইআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হয়ে গিয়েছে অরিত্র। শুরু হয়েছে ক্লাসও। আর তো ফেরার কোনও প্রশ্ন নেই।"
মেধা তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা রুবি পার্ক দিল্লি পাবলিক স্কুলের ছাত্র দিশান্ত বসু জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ আয়োজিত আইসার অ্যাপ্টিটিউড টেস্টে প্রথম হন। অন্য সর্বভারতীয় পরীক্ষাতেও ভাল ফল ছিল তাঁর। স্বপ্ন ছিল বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে (আইআইএসসি) পড়াশোনা করার। সে স্বপ্ন সার্থক হয়েছে। রাজ্য জয়েন্টের ফলের অপেক্ষা না করে ইতিমধ্যেই সেখানে পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতকে ভর্তি হয়েছেন দিশান্ত।
মেধাতালিকার নবম স্থানে থাকা দিল্লি পাবলিক স্কুলের আরেক ছাত্র প্রতীক ধনুকার বাবাও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আইআইটি কানপুরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতকে ভর্তি হয়েছেন প্রতীক। রাজ্যে ফেরার সম্ভাবনা নেই তারও।
রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হয়েছিল ২৭ এপ্রিল। কিন্তু ওবিসি জটে আটকে গিয়েছিল ফলপ্রকাশ। ১১৭ দিন অপেক্ষার পর অবশেষে শুক্রবার আদালতের হস্তক্ষেপে প্রকাশিত হল ফল। এ ঘটনা একেবারে নজিরবিহীন বলেই দাবি রাজ্যের শিক্ষা মহলের একাংশের। প্রতিবার যেখানে কাউন্সেলিং-ভর্তি প্রক্রিয়া ইত্যাদি পেরিয়ে এতদিনে ক্লাস শুরু হয়ে যায়, সেখানে এবার ফল বেরোতেই মাসের পর মাস কাবার। স্বাভাবিকভাবেই দারুণ উদ্বেগে কাটছিল প্রত্যেকটা পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের। ধৈর্য রাখতে না পেরে সন্তানদের ভবিষ্যত ভেবে অনেকেই ছুটেছেন বেসরকারি কলেজে। পা বাড়িয়েছেন সাধ্যের বাইরে। কেউ রাজ্যে ঠিকানা খুঁজলেও বেশিরভাগই চলে গিয়েছেন রাজ্যের বাইরে।
বেশ কয়েকবছর ধরেই এ রাজ্যের মেধাবী তো বটেই মধ্যমেধার অনেক পড়ুয়াও ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে উচ্চমাধ্যমিক শেষ হতেই রাজ্য ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার ফল প্রকাশের গেড়োয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির স্বপ্ন দেখা পড়ুয়ারাও রাজ্যে বা ভিনরাজ্যে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে গেছেন। এমন অবস্থায় রাজ্যের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে মেধা সঙ্কট দেখা দেবে না তো? ভাবাচ্ছে অনেককেই।